ডিসির বিরুদ্ধে নারী ইউএনওর অডিও ভাইরাল
ঝিনাইদহের প্রশাসনিক অঙ্গনে হঠাৎই যেন ছড়িয়ে পড়েছে এক ঝড়—অডিও ক্লিপের ঝড়, অভিযোগের ঝড়, আর গুঞ্জনের এক অস্থির আবহ। ক্ষমতার করিডোরে যেখানে শীতল শৃঙ্খলা থাকার কথা, সেখানে এখন আলোড়ন তুলেছে এক অদ্ভুত টানাপোড়েনের গল্প—যেন আস্থা আর অবিশ্বাসের এক জটিল সম্পর্ক।
ভাইরাল অডিওতে বিস্ফোরক অভিযোগ- শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও ক্লিপ মুহূর্তেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। সেখানে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সদ্য বিদায়ী ইউএনও হোসনে আরাকে এক সাংবাদিকের সঙ্গে কথোপকথনে শোনা যায়।
অডিওতে তিনি অভিযোগ করেন— জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ তার কাছে টাকাসহ বিভিন্ন অনৈতিক প্রস্তাব দেন। এ প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাকে বিধিবহির্ভূতভাবে বদলি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। অভিযোগের ভাষায় ক্ষোভ আর বেদনার ছাপ কথোপকথনে ইউএনওর কণ্ঠে ফুটে ওঠে ক্ষোভ, হতাশা আর এক ধরনের অসহায়তা।
তিনি দাবি করেন, নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত থাকার পাশাপাশি তাকে বারবার চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বরাদ্দ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিবহির্ভূত নির্দেশ মানতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি। এমনকি ব্যক্তিগত জীবনের চাপে ফেলতেও চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
আগের অভিযোগ, নতুন বিতর্ক। এর আগেও গত ২৮ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। সেসব পোস্টে বিভিন্ন জেলার কর্মকালের নানা ছবি ও তথ্য যুক্ত করা হয়। তবে জেলা প্রশাসক এসব অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট, ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। আবার ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি জিডিও করেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে তার মানহানি করার চেষ্টা করছে।
নিন্দা, প্রতিবাদ ও জবাবহীনতা- এ ঘটনার পর জেলাজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ডিসির বদলি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে,সর্বশেষ এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি— যেন নীরবতার মধ্যেই লুকিয়ে আছে আরও অজানা অধ্যায়। নীরবতা মানে কি দোষ স্বীকার না দায়মুক্তি? এমন প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে নেটিজেনরা।
শেষ দৃশ্য: প্রশ্নে ঘেরা প্রশাসনিক অঙ্গন-এই ঘটনা এখন শুধু একটি অভিযোগ নয়—এটি যেন প্রশাসনের ভেতরের সম্পর্ক, ক্ষমতা আর নৈতিকতার এক জটিল প্রতিচ্ছবি।
অডিওর শব্দ থেমে গেলেও প্রশ্নগুলো এখনো ঘুরপাক খাচ্ছে— সত্য কোথায়? কে দায়ী? আর এই অন্ধকার অধ্যায়ের শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। ঝিনাইদহের আকাশে এখন একটাই প্রতীক্ষা—সত্যের মুখোমুখি হওয়ার।
