শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অভ্যুত্থানের পর পুলিশের ১৪৭ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

স্টাফ রিপোর্টার
অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১২:৩০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পলাতক ৬২ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা, চাকরিচ্যুত ৩১। বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পুনরায় পদায়ন নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে প্রশ্ন। ফাইল ছবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ও তার ওপরের পদমর্যাদার ১৪৭ কর্মকর্তাকে জনস্বার্থে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কর্মস্থল থেকে পলায়নের অভিযোগে বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ৬২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩১ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পঞ্চম বৈঠকে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমেদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, নূরুল ইসলাম ও আব্দুল বাতেন অংশ নেন।

বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অগ্রগতি

গত ১৩ আগস্ট সংসদীয় কমিটির প্রথম বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিতর্কিত বা নেতিবাচক ভূমিকা পালনকারী এবং শাস্তি পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল। ওই সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদনে এবার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনায় কর্মস্থলে অনুপস্থিত বা পলাতক থাকার কারণে এএসপি ও তার ওপরের পদমর্যাদার ৫৭ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও করা হয়েছে। এসব মামলায় ২৮ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং একজনকে জনস্বার্থে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া গণঅভ্যুত্থানকেন্দ্রিক বিভিন্ন ফৌজদারি মামলা, আদালতে দায়ের করা অভিযোগ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেপ্তার ২৯ পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) পদমর্যাদার দুজনকে জনস্বার্থে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের রায়ের ভিত্তিতে চাকরিচ্যুত পাঁচ কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এর ২০২৫ সালের চারটি মামলার রায়ের ভিত্তিতে এএসপি ও তার ওপরের পদমর্যাদার ১৩ কর্মকর্তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দণ্ডিত পাঁচ কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বাকি আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে।

গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার কারণে পুলিশ পরিদর্শক পদমর্যাদার পাঁচ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অপসারণ করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও ৩০ পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।

এ ছাড়া গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশ পরিদর্শক পদমর্যাদার ৭৩ কর্মকর্তাকে জনস্বার্থে অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধেও চাকরিবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পুনরায় পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন

সংসদীয় কমিটির সদস্য শিরীন সুলতানা প্রশ্ন তোলেন, গণঅভ্যুত্থানে বিতর্কিত বা নেতিবাচক ভূমিকা পালনকারী এবং শাস্তি পাওয়া কিছু পুলিশ কর্মকর্তা কীভাবে আবার নরসিংদী ও ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন থানায় পদায়ন পাচ্ছেন। এ বিষয়ে তদন্ত করে অভিযুক্ত ও বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

কমিটির আরেক সদস্য মনোয়ার হোসেন বলেন, গুম কমিশনের প্রতিবেদনে যাঁদের নাম এসেছে এবং যাঁরা বিভাগীয় শাস্তি পেয়েছেন, তাঁদের অনেকে এখনো বিভিন্ন পদে বহাল রয়েছেন। এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি স্বরাষ্ট্রসচিব ও পুলিশ মহাপরিদর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

পুলিশের মনোবল ফেরাতে বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রশ্ন

বৈঠকে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে পুলিশের মনোবল ও মানসিক অবস্থা পুনরুদ্ধারের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। সংসদ সদস্য আব্দুল বাতেন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের অবকাঠামো ও যানবাহনের ক্ষতির পাশাপাশি সদস্যদের মনোবল এবং মানসিক অবস্থার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। পুলিশ সদস্যদের মনোবল ফেরাতে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও বাজেটে আলাদা বরাদ্দ রয়েছে কি না, তা জানতে চান তিনি।

জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী জানান, পুলিশের মনোবল বাড়াতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ চলছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে মবের কারণে পুলিশকে দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন বাধা ও বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয়েছে। থানায় পুলিশ কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অপরাধের পরিসংখ্যানে তুলনামূলক চিত্র, আধুনিক প্রযুক্তির সুপারিশ

সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কমিটির পঞ্চম বৈঠকে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপরাধের তুলনামূলক পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়। এতে ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, অপহরণ, চুরি, মাদকদ্রব্য, অস্ত্র আইন এবং বিস্ফোরক দ্রব্য-সংক্রান্ত মামলার তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতির চিত্র উঠে এসেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে কমিটির সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

একই সঙ্গে সারা দেশে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে নেওয়া পদক্ষেপের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ করে কমিটি। এ ছাড়া পৃথক সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়।

কমিটির সদস্য নূরুল ইসলাম রাজধানীর সাম্প্রতিক অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমেদ অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম ও অগ্রগতি তুলে ধরেন।

সংসদ ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনে স্থাপত্যশৈলী রক্ষার সুপারিশ

জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের ক্ষেত্রে মূল স্থাপত্যশৈলী ও স্থপতি লুই আই কানের নকশা অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কমিটি। এ ক্ষেত্রে ভবনের মূল নকশার যাতে কোনো ব্যত্যয় না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অথবা অন্য কোনো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সোলার প্যানেল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সুপারিশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, আশরাফ উদ্দিন, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, সাইফুল আলম ও মারদিয়া মমতাজ অংশ নেন।

ই-পার্লামেন্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে ১০ সদস্যের কমিটি

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) প্রণীত ‘ই-জাতীয় সংসদ প্রকল্প (ই-জেএসপি)’ বাস্তবায়নে ১০ সদস্যের ‘ই-পার্লামেন্ট বিষয়ক প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), নায়াব ইউসুফ আহমেদ, মীর আহমাদ বিন কাসেম, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আখতার হোসেন, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ও আন্না মিন্জ। কমিটির সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মহাপরিচালক (বিঅ্যান্ডআইটি)।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ে ৬ হাজার ৬৫৩ পদ শূন্য, দ্রুত নিয়োগের সুপারিশ

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদে বর্তমানে ৬ হাজার ৬৫৩টি শূন্য রয়েছে। এসব পদ দ্রুত পূরণে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের কার্যক্রম বন্ধ রেখে নিয়মিত নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুপারিশ করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

কমিটির সভাপতি আবদুস সালাম পিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, আবুল কালাম, আবু তালেব মণ্ডল, আব্দুল করিম ও শামছুন্নাহার বেগম অংশ নেন।

বৈঠকে জানানো হয়, অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে দেশে আবাদি জমির পরিমাণ ক্রমেই কমছে। অন্যদিকে ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ডিলার নিয়োগের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।

খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রকৃত উপকারভোগী নির্ধারণ এবং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া অনুসরণের সুপারিশ করেছে কমিটি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।