ক্ষমতার পালাবদলেও বহাল প্রভাবশালী কর্মকর্তা, সাব-রেজিস্ট্রার থেকে জেলা রেজিস্ট্রার—পদোন্নতি, বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে আলোচনায় রমজান খান। ফাইল ছবি
সরকার আসে, সরকার যায়; কিন্তু প্রশাসনের ক্ষমতার বলয়ে থাকা কিছু কর্মকর্তার অবস্থানের যেন কোনো পরিবর্তন হয় না। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের অবস্থান বদলে নতুন ক্ষমতাকেন্দ্রে জায়গা করে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় এমনই এক আলোচিত নাম মুন্সিগঞ্জের বর্তমান জেলা রেজিস্ট্রার মো. রমজান খান। তাঁর বিরুদ্ধে সাব-রেজিস্ট্রার ও জেলা রেজিস্ট্রারদের বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে প্রভাব বিস্তার, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন রমজান খান। রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্ট্রেশন অফিসগুলোতে দায়িত্ব পালন এবং বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। এমনকি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও তাঁর রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগে।
প্রশাসনের স্তরবিন্যাসে একজন সাব-রেজিস্ট্রারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি সাধারণত ব্যতিক্রমী। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, রমজান খানের ক্ষেত্রে সেই দূরত্ব ঘুচেছিল রাজনৈতিক সংযোগ ও ক্ষমতার প্রভাবের কারণে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাই প্রয়োজন।
আওয়ামী লীগ আমলে প্রভাব, পটপরিবর্তনের পর নতুন রাজনৈতিক বলয়ে
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও রমজান খানের অবস্থান অক্ষুণ্ন থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের আশীর্বাদপুষ্ট হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা বর্তমানে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আইনবিষয়ক নেতৃত্বের ছত্রছায়ায় রয়েছেন। মুন্সিগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিজের প্রভাব ধরে রেখেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে পাওয়া অভিযোগপত্রের তথ্যমতে, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নির্বাচনী এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় রমজান খানের বাড়ি হওয়ায় তিনি মন্ত্রীর মাধ্যমে বিগত ১৫ বছরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও লোভনীয় রেজিস্ট্রেশন অফিসগুলোতে পোস্টিং পেয়েছেন। এসব পদে দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম, দুর্নীতি ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা এবং বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ দুই কর্মকর্তার সঙ্গে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিআরএসএ) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের আড়ালে নিবন্ধন অধিদপ্তরে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এই বদলি বাণিজ্য বন্ধে গত বছরের মে মাসে আইন উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন এক ভুক্তভোগী। অভিযোগপত্রে রমজান খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন, বদলি বাণিজ্য এবং বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়।
বাংলাদেশ নিবন্ধন অধিদপ্তরের অধীন কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে দায়ের করা ওই অভিযোগপত্রে বলা হয়, দীর্ঘদিন সাব-রেজিস্ট্রার পদে চাকরি করে দেশের বিভিন্ন লোভনীয় স্টেশনে দায়িত্ব পালনকালে রমজান খান বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন।
চাকরির শুরু থেকেই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০০৪ সালে সাব-রেজিস্ট্রার পদে চাকরিতে যোগদান করেন মো. রমজান খান। অভিযোগকারীদের দাবি, ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগের ক্যাডার ছিলেন। এর আগে জেল পুলিশ হিসেবে বিভিন্ন কারাগারে চাকরি করার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ যশোর কারাগারে বন্দীদের ওপর নির্যাতন করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে তাঁর চাকরি চলে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সাব-রেজিস্ট্রার পদে যোগদানের পরই তাঁর ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। নরসিংদী সদর, কালামপুর, ফতুল্লা, গুলশান, নেত্রকোনা সদর ও মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
এসব কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি এবং বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রার ও জেলা রেজিস্ট্রারের বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অর্জিত অর্থের একটি অংশ শ্যালকের মাধ্যমে লন্ডন, মালয়েশিয়া ও দুবাইয়ে বিনিয়োগ করা হয়েছে। ওই তিন দেশে তাঁর প্রায় অর্ধ ডজন বাড়ি রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
পটপরিবর্তনের পর বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগ
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচিত হতে শুরু করেন রমজান খান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিএনপির কমিটি গঠনের দায়িত্ব নেওয়া, তদবির বাণিজ্য এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিএনপিতে যোগদান করিয়ে তাঁদের রাজনৈতিকভাবে সুরক্ষা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীদের দাবি, কয়েকশ চিহ্নিত আওয়ামী লীগ কর্মীকে বিএনপিতে যোগদান করিয়ে তাঁদের প্রতিষ্ঠিত করতে ভূমিকা রেখেছেন তিনি। নিজেকে বিএনপির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তদবিরের মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার থেকে জেলা রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি এবং একই জেলার জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে পদায়ন ও পদোন্নতির বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
বদলি বাণিজ্যের অভিযোগে গুলশানের হোটেল
৫ আগস্ট ২০২৪-এর পরও রমজান খানের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য ও মামলাবাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গত ১৭ বছরে সংঘটিত বদলি বাণিজ্যের বড় একটি অংশের নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রমজান খান বদলি বাণিজ্যের কার্যক্রম পরিচালনায় গুলশান-১-এর গ্লোরিয়া জিন্স হোটেলকে বেছে নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সেখানে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর সাব-রেজিস্ট্রার, জেলা রেজিস্ট্রার ও অফিস সহকারীদের বদলি নিয়ে দর-কষাকষি চলত।
চট্টগ্রাম সদর, গুলশান, শ্যামপুর, কেরানীগঞ্জ, গজারিয়া, রূপগঞ্জ, কাপাসিয়া, শ্রীপুর, গাজীপুর সদর, রাঙ্গুনিয়া, কক্সবাজার সদর, পটিয়া, নোয়াখালী সদর, টাঙ্গাইল সদর, নবাবগঞ্জ, মধুপুর, ঘাটাইল, ত্রিশাল, কান্দিরপাড়, ফুলপুর ও খিলগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দেড় শতাধিক সাব-রেজিস্ট্রারকে বদলি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, আইন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষস্থানীয় দুই কর্মকর্তা ও কয়েকজন সাব-রেজিস্ট্রারকে সঙ্গে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গঠন করে এই বদলি বাণিজ্য পরিচালনা করা হচ্ছে।
১ কোটি ২০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ, বদলি সীতাকুণ্ডে
বদলি বাণিজ্যের অভিযোগের মধ্যে নীলফামারী জেলার জলঢাকা সাব-রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রের তথ্যমতে, লুৎফর রহমান মোল্লাকে চট্টগ্রাম সদর অথবা রূপগঞ্জে বদলি করে দেওয়ার কথা বলে রমজান খান তাঁর কাছ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা নেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁকে বদলি করা হয় সীতাকুণ্ডে।
অভিযোগকারীদের দাবি, অন্যদের কাছ থেকে আরও বেশি অর্থ পাওয়ায় রূপগঞ্জ ও চট্টগ্রাম সদরে অন্য কর্মকর্তাদের বদলির ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তী সময়ে ‘আনডিউ বদলি’র অজুহাতে ৬০ লাখ টাকা নিয়ে সীতাকুণ্ডের বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার রায়হান হাবিবের বদলির আদেশ বাতিল করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
লুৎফর রহমান মোল্লার কাছ থেকে নেওয়া অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছে রমজান খানের বিরুদ্ধে। তবে এসব আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার পদে আসার ঘোষণা, কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ
অভিযোগকারীদের দাবি, মুন্সিগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার থেকে ঢাকা জেলার তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে বদলি হয়ে যোগদানের ঘোষণা দিয়েছেন রমজান খান।
তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা জেলার গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্ট্রেশন অফিসগুলোতে সম্ভাব্য প্রভাব বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি অংশ।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ঢাকা জেলার ২২টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে তাঁর প্রভাব বিস্তার ঘটলে ঘুষ, দুর্নীতি, দলিল বাণিজ্য ও অনিয়ম আরও বাড়তে পারে। তাঁদের দাবি, রমজান খানের প্রায় ৩০ জন ব্যক্তিগত দালাল সারাদেশে সক্রিয় রয়েছেন। তাঁরা ঢাকা ও চট্টগ্রাম রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অফিসে দলিল নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য গ্রহণ করা প্রয়োজন।
গুলশানে ৩০ ফ্ল্যাট-প্লট, আখাউড়ায় কয়েকশ একর জমির অভিযোগ
রমজান খানের সম্পদ নিয়েও অভিযোগপত্রে বিস্তর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, গুলশানে তাঁর নামে-বেনামে ৩০টি ফ্ল্যাট ও প্লট বুকিং রয়েছে। গুলশান নিকেতনে তিনি সপরিবারে বসবাস করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় রয়েছে কয়েকশ একর জমি এবং ব্যাংকে রয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।
এ ছাড়া লন্ডন, দুবাই ও মালয়েশিয়ায় সম্পদ অর্জন এবং দেশে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগও করা হয়েছে। এসব সম্পদের মালিকানা, অর্থের উৎস ও বিদেশে বিনিয়োগের বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা।
লিখিত অভিযোগে রমজান খানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগের পরও এখন পর্যন্ত তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
আইনমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
মুন্সিগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার রমজান খানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান এমপির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারীরা।
তাঁদের দাবি, বদলি বাণিজ্য, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে। একই সঙ্গে নিবন্ধন অধিদপ্তরের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন
রমজান খানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কেবল একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নয়; বরং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রশাসনের জবাবদিহি, বদলি-পদায়নে স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বিগত সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে যাঁরা সুবিধা নিয়েছেন, তাঁরা যদি নতুন রাজনৈতিক বলয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে আবারও গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকেন, তাহলে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশা ব্যাহত হতে পারে।
তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। রমজান খানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং তাঁর বক্তব্য গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগের সত্যতা না মিললে তাঁকে দায়মুক্তি দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
রাজনীতির মাঠে পরিবর্তন তখনই অর্থবহ হবে, যখন প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
এসব অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে দুদকে অভিযোগের প্রস্তুতিসহ বিস্তারিত থাকছে পরবর্তী প্রতিবেদনে।
