পথসভায় বক্তব্য রাখছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করে বলেছেন, আওয়ামী লীগের প্রায় ৩০ হাজার সন্ত্রাসীকে পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই ভারতে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ভারত তাদের অর্থ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে আবার বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে। দেশে ফিরে তারা একের পর এক অপরাধে জড়াচ্ছে। এ বিষয়ে বারবার বলা হলেও ভারত এসব কার্যক্রম বন্ধ করেনি।
বুধবার বিকেলে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের ফুলতলী গ্রামে এক পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ভারত আমাদের দেশের সন্ত্রাসীদের লালন-পালন করছে, অথচ আমরা তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখছি—এটা আর মেনে নেওয়া যায় না।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ওরা যদি আমাদের দেশের সন্ত্রাসীদের আশ্রয়, অর্থ ও ট্রেনিং দিতে পারে, তাহলে আমরা যদি তাদের সন্ত্রাসীদের বিষয়ে একইরকম করি, সেটাই বা অপরাধ হবে কেন? সম্পর্ক হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে। সীমান্তে আমাদের মানুষকে দেখলে যদি গুলি করা হয়, আমরা বসে থাকবো না। গুলি করতে না পারলে আমরা ঢিল হলেও ছুড়বে।
তিনি আরও বলেন, ভারত নাটক-সিনেমার মাধ্যমে তাদের সংস্কৃতি আমাদের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে আমাদের নির্ভরশীল করে রাখতে চায়। এখন সময় এসেছে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার। আগের প্রজন্ম প্রকাশ্যে লড়াই করেনি, কারণ তারা গোপনে যোগাযোগ রাখতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল স্বামী-স্ত্রীর মতো। ভারতীয় ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশের মুসলমানদের বছরের পর বছর জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যারা এর প্রতিবাদ করেছে, তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় ভাই হাদিও নিহত হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আমাদেরও টার্গেট করা হয়েছে। আমরা মারা গেলে কী হবে? আমাদের জায়গায় আরও হাজারো মানুষ দাঁড়িয়ে যাবে।
এদিকে, বুধবার বিকেলে হাসনাত আব্দুল্লাহর গণসংযোগ চলাকালে এলাহাবাদ এলাকা থেকে পুলিশ দুইজন সন্দেহভাজনকে আটক করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, হাসনাত আবদুল্লাহর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা তৎপর রয়েছে। আটক দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সন্দেহ না পাওয়ায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
