বৃহস্পতিবার, ৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে রক্তাক্ত বিকেল: সহকর্মীর ছুরিতে ঝরল নারী শিক্ষকের প্রাণ, কক্ষে আত্মহত্যার চেষ্টা অভিযুক্ত শিক্ষকের

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ৪, ২০২৬ ৮:৫৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আসমা সাদিয়া রুনা। ছবি: বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নেমে এলো শোকের ছায়া। বিকেলের নিস্তব্ধতা ভেঙে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের একটি কক্ষে রচিত হলো রক্তাক্ত অধ্যায়। সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা সহকর্মীর ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন।

বুধবার বিকেল ৪টার দিকে ২২৬ নম্বর কক্ষে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমান আচমকা ওই শিক্ষিকাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন। রক্তাক্ত দেহ মেঝেতে লুটিয়ে পড়ার পর একই কক্ষে নিজের গলায়ও ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।

বন্ধ দরজার ওপারে রক্তাক্ত দৃশ্য- সেদিন বিভাগে ইফতার মাহফিলের আয়োজন ছিল। হঠাৎ সভাপতির কক্ষ থেকে চিৎকার শোনা গেলে নিচে থাকা আনসার সদস্য ও শিক্ষার্থীরা ছুটে যান। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ফেলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিভীষিকাময় দৃশ্য—মেঝেতে রক্তাক্ত নিথর দেহ, আর পাশে অভিযুক্তের আত্মহত্যার চেষ্টা।
তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানাকে খবর দেওয়া হয়। দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাসপাতালে শেষ লড়াই- আসমা সাদিয়া রুনাকে নেওয়া হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা হোসেন ঈমাম জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে আনার আগেই তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। ইসিজি পরীক্ষার মাধ্যমে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তার গলায়, হাতে ও পায়ে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত ফজলুর রহমান বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

পেছনের ক্ষোভের ইঙ্গিত- বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে ফজলুর রহমানের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, সেই ক্ষোভের জেরেই ঘটতে পারে এই নৃশংস হামলা।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়ায় জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, এ ঘটনা অকল্পনীয় ও অপ্রত্যাশিত। জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য একটি শিক্ষাঙ্গন—যেখানে জ্ঞানচর্চা আর মানবিকতার আলো জ্বলার কথা, সেখানে রক্তাক্ত হলো একজন শিক্ষকের জীবন। সহকর্মীর হাতে এমন নির্মম পরিণতি শুধু একটি প্রাণহানিই নয়, এটি পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে নাড়িয়ে দেওয়া এক গভীর ক্ষত।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।