ঢাকার উত্তরায় এই ঈদ জামাতের আয়োজন করে অরাজনৈতিক আন্দোলন হেযবুত তওহীদের ঢাকা মহানগর শাখা। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর উত্তরায় ঈদুল ফিতরের জামাতে এবার দেখা গেল এক ভিন্ন চিত্র—বিপুল সংখ্যক নারীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জমে উঠল এক ব্যতিক্রমী আয়োজন। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে অনুষ্ঠিত এই জামাতে প্রায় ৫ হাজার মুসল্লির উপস্থিতির মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই ছিলেন নারী, যা বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শনিবার সকালে ঢাকার উত্তরায় এই ঈদ জামাতের আয়োজন করে অরাজনৈতিক আন্দোলন হেযবুত তওহীদের ঢাকা মহানগর শাখা। খুতবা প্রদান ও ইমামতি করেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতা এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম।
ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই উত্তরা, মিরপুরসহ আশপাশের এলাকা থেকে দলে দলে মুসল্লিরা ঈদগাহমুখী হন। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে অংশ নেন এই জামাতে, যা পুরো পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। সকাল সাড়ে আটটার মধ্যেই প্যান্ডেল পূর্ণ হয়ে যায় মানুষের উপস্থিতিতে।
জামাতের আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম মুসলিম বিশ্বের চলমান সংকট—বিশেষ করে ইরান ও ফিলিস্তিনের পরিস্থিতি—উল্লেখ করেন। তিনি এই দুঃসময়ে উম্মাহর ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সকাল সাড়ে নয়টায় অনুষ্ঠিত হয় ঈদের নামাজ। নামাজ শেষে খুতবা ও মোনাজাতে অংশ নেন মুসল্লিরা, যেখানে ছিল আবেগ, প্রার্থনা আর ঐক্যের আহ্বান।

একই জামাতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে অংশ নিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারীরা। বিশেষ করে নারীরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এমন আয়োজন নারীদের ধর্মীয় কার্যক্রমে আরও সক্রিয় অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত করবে।
আয়োজকদের ভাষ্য, ইসলামের প্রাথমিক যুগে নারীরা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন এবং ঈদ ও জুমার নামাজে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা হতো। সেই ঐতিহ্যকে সামনে রেখে নারীদের সম্পৃক্ততা বাড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা অনুসরণ করে নারীদের এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
