শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এনআইডির তথ্য বেচে ১১ কোটি টাকা হাতিয়েছে ইসির কর্মচারী: সিআইডি

স্টাফ রিপোর্টার
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬ ১১:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

হাবীবুল্লাহ ও আলামিন

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য বিক্রি করে প্রায় ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দুজনই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মচারী। তারা হলেন– মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা নিবার্চন অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. হাবীবুল্লাহ ও ঢাকা অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (আউটসোর্সিং) মো. আলামিন।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের ডিআইজি আবুল বাশার তালুকদার বলেন, নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহায়তায় বুধবার রাতে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন অফিস থেকে আলামিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকা থেকে হাবীবুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। অভিযানে তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন ‘আলামত’ হিসেবে উদ্ধার করা হয়।

তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, হাবীবুল্লাহ ২০০৮ সালে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে যোগ দেন। তিনি ২০১৩ সাল থেকে ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে কর্মরত থাকার পর গত বছরের এপ্রিলে গজারিয়ায় বদলি হন। আলামিন ২০১৬ সাল থেকে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (আউটসোর্সিং) হিসেবে হাবীবুল্লাহর সঙ্গে ঢাকায় কাজ করেছেন। তার কাছে একটি গোপন আইডি ও পাসওয়ার্ড ছিল। সেটি দিয়ে সহজেই সারাদেশের এনআইডি সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা যেত। তবে হাবীবুল্লাহর আইডি দিয়ে শুধু গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের অন্তর্ভুক্ত নাগরিকদের তথ্য যাচাই সম্ভব ছিল। ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে হাবীবুল্লাহকে নিজের আইডি ও পাসওয়ার্ড দেন আলামিন। এজন্য তিনি প্রতি সপ্তাহে ৪–৫ হাজার টাকা পেতেন। আর হাবীবুল্লাহ ওই আইডি দিয়ে বিভিন্ন জনের জাতীয় পরিচয়পত্রের সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে ২০০–৩০০ টাকায় বিক্রি করতেন।

সিআইডি জানায়, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই আইডি দিয়ে এক সপ্তাহে ১ লাখ ১২ হাজার ১৫০টি এবং ৩০ দিনে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দেখা হয়েছে। প্রতি এনআইডির তথ্য ৩০০ টাকায় বিক্রির হিসাব ধরলে প্রায় ১১ কোটি হাতিয়ে নিয়েছে হাবীবুল্লাহ। সেই টাকা দিয়ে ঢাকায় নিজস্ব ফ্ল্যাটসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হয়েছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে এই দুজন মিলে ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) দিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের এনআইডির মূল সার্ভারে ঢুকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে আসছিলেন। সেসব তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হতো। পল্টন থানার আগের একটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাইমেনুল ইসলাম গণমাধ্যম কে বলেন, এনআইডির তথ্য নানারকম প্রতারণায় ব্যবহৃত হচ্ছে। টার্গেট ব্যক্তির মোবাইল ফোন নম্বর ব্লক করে ছদ্মপরিচয়ে অসুস্থতার কথা বলে আত্মীয়–স্বজনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। কোনো ব্যক্তির কণ্ঠ নকল করে তার নম্বর থেকে কল করে বিদেশের বিমানবন্দরে টিকেট হারিয়ে ফেলার কথা বলে টাকা আদায়ের ঘটনা রয়েছে। এ ছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) সংক্রান্ত প্রতারণার ক্ষেত্রেও এসব তথ্য ব্যবহার হয়।

সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) জসীম উদ্দিন খান।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।