চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিতে আইনি বাধা নেই—হাইকোর্টের এমন রায়ের পর বন্দর এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন শ্রমিক–কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার বন্দর ভবনের ভেতরে বিক্ষোভ শেষে আগামী শনিবার থেকে শাটডাউন কর্মসূচির ঘোষণা দেন তারা।
শ্রমিক নেতারা জানান, শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের সব অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পরদিন রোববার একই সময়ে প্রশাসনিক ও অপারেশনাল—দু’ধরনের কার্যক্রমই বন্ধ রাখা হবে।
সিবিএর সাবেক প্রচার সম্পাদক হুমায়ুন কবির বলেন, “কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার বন্দরে পণ্য ওঠানামা, কনটেইনার হ্যান্ডলিং, জাহাজ থেকে পণ্য খালাসসহ সব অপারেশন বন্ধ থাকবে। রোববার এসবের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমও স্থগিত থাকবে।”
শ্রমিকদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান চেয়ারম্যানের অপসারণ, বর্তমান বন্দর বোর্ডকে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল এবং জাতীয় সম্পদ হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা বা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া বাতিল।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সংক্রান্ত চলমান প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে করা রিট খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে রায় দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চ এ রায় দেন। এর মাধ্যমে হাইকোর্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে রিট খারিজের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলো।
আইনজীবীরা জানান, এর আগে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর রিট আবেদনটি নিয়ে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে বিভক্ত রায় হয়েছিল। জ্যেষ্ঠ বিচারপতি রুল অ্যাবসলিউট ঘোষণা করলেও অপর বিচারপতি রুল ডিসচার্জ করে রায় দেন। পরে প্রধান বিচারপতি গত ১৫ ডিসেম্বর মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চে পাঠান।
রায়ের পর রিট আবেদনকারীর অন্যতম আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন বলেন, “হাইকোর্টের একক বেঞ্চ রুল ডিসচার্জ করে রায় দিয়েছেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।
রায়ে উল্লেখ করা হয়, দুবাই সরকারের পক্ষে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের করা সমঝোতা স্মারক আইনগতভাবেই সম্পন্ন হয়েছে এবং এতে কোনো বিধিবিধান লঙ্ঘন হয়নি।
হাইকোর্টের রায়ের পরপরই বন্দরকে ঘিরে শ্রমিক অসন্তোষ নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
