বৃহস্পতিবার, ৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

“ওয়াসার রাজস্ব পরিদর্শক হারুন রানার দুদক-দায়মুক্তির রহস্য উন্মোচনের দাবি, ৩৫ হাজার টাকার বেতনে শতকোটি টাকার মালিক! প্রশ্নের মুখে দুদকের দুই দফা ‘ক্লিনচিট’

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব পরিদর্শক হারুন অর রশিদ ওরফে রানা—একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী, অথচ যার সম্পদের পরিমাণ শতকোটি টাকা ছাড়িয়েছে! আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, একাধিক গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাকে দুই দফায় দায়মুক্তি দিয়েছে। এই রহস্যজনক দায়মুক্তি ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা, সমালোচনা ও প্রশ্ন।
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলন্দাজ বাবেলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হারুন রানার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, আন্ডার বিলিং, মিটার টেম্পারিং এবং অবৈধ পানির সংযোগ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমেই তিনি গড়ে তুলেছেন এক বিশাল সম্পদের সাম্রাজ্য।
বর্তমানে মাত্র ৩৫ হাজার টাকা মাসিক বেতনভুক্ত এই রাজস্ব পরিদর্শকের ঢাকার মোহাম্মদপুরে রয়েছে চারটি বাড়ি, একাধিক ফ্ল্যাট ও গাড়ি। গাজীপুরের শ্রীপুর-মাওনা ও ময়মনসিংহের ভালুকা, গফরগাঁও এবং পাগলা থানায় বিঘায় বিঘায় জমি, টিনসেড ও পাকা বাড়ি, এমনকি গ্রামের বাড়িতে রাজকীয় প্রাসাদও রয়েছে। অধিকাংশ সম্পদই স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়দের নামে-বেনামে করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো—
২০১৬ এবং ২০২০ সালে দুদকে দায়ের করা অভিযোগে হারুন রানাকে ‘অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি’ মর্মে দায়মুক্তি দেওয়া হয়। প্রথম দফায় দুদকের দাপ্তরিক নথিতে একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীকে ‘কর্মকর্তা’ হিসেবে উল্লেখ করাও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে তদন্তের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে।
এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি দুদক চেয়ারম্যান বরাবর জনস্বার্থে একটি আবেদন দাখিল করা হয়েছে। আবেদনে হারুন রানার সম্পদের পুনঃতদন্ত, আগের তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা যাচাই এবং দু’দফা দায়মুক্তির নেপথ্যের কারণ প্রকাশের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
গ্রামবাসী ও ওয়াসার কর্মচারীদের প্রশ্ন একটাই—
“একজন সাবেক মিটার রিডার কীভাবে আলাদীনের চেরাগের মতো শতকোটি টাকার মালিক হয়?”
অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার দাপট ও অর্থবলের জোরে হারুন রানা থানাপুলিশ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দপ্তর ‘ম্যানেজ’ করে রাখতেন। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির ভয় দেখানো হতো। এমনকি মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে দুদক থেকেও দায়মুক্তির সনদ আদায় করা হয়েছে—এমন গুরুতর অভিযোগও উঠেছে।
বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার ৩ নম্বর রাজস্ব জোনে কর্মরত হারুন রানা নিজে নিয়মিত ডিউটি না করে অবৈধভাবে নিয়োজিত ‘ডুপলি’ দিয়ে কাজ করান বলেও অভিযোগ আছে—যা ওয়াসার বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।
প্রশ্ন উঠছে—
দুর্নীতির পাহাড়সম প্রমাণের পরও কীভাবে একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী দু’দফা দুদক-দায়মুক্তি পান?
এই দায়মুক্তি কি কেবল গাফিলতির ফল, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো অদৃশ্য সমীকরণ?
এখন দেশবাসীর দৃষ্টি একটাই—
দুদক কি এবার সত্যিই হারুন রানার ‘অদৃশ্য রক্ষাকবচ’ ভেদ করতে পারবে?

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
নগর-মহানগর সর্বশেষ