পুরস্কার হাতে জয়া আহসান। ছবি সংগৃহীত
নতুন বছরের শুরুতেই যেন রুপালি পর্দায় বসন্ত নামালেন জয়া আহসান। অভিনয়ের সূক্ষ্মতা, আবেগের গভীরতা আর চরিত্রের আত্মা ছুঁয়ে যাওয়ার ক্ষমতা—সব মিলিয়ে আরও একবার নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলেন তিনি। কলকাতার জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল জি ২৪ ঘণ্টা আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ ‘বিনোদনের সেরা ২৪’ অ্যাওয়ার্ডে সমালোচকদের বিচারে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার উঠেছে তাঁর হাতে।
সুমন মুখার্জি পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’–তে কুসুম চরিত্রে জয়ার অনবদ্য, সংবেদনশীল ও সাহসী অভিনয়ই এনে দিয়েছে এই সম্মান—যেন পর্দার কুসুম বাস্তব জীবনেও হয়ে উঠলেন বিজয়ের প্রতীক।
💫 “কৃতজ্ঞ ও অভিভূত”—জয়ার অনুভব
পুরস্কার হাতে পাওয়ার পর আবেগের কথা ভাগ করে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জয়া আহসান লেখেন— পুতুলনাচের ইতিকথা’ সিনেমার জন্য বছরের প্রথম পুরস্কার পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি। জি ২৪ ঘণ্টা আয়োজিত ‘বিনোদনের সেরা ২৪’ অনুষ্ঠানে সমালোচকদের বিচারে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে এই স্বীকৃতি পাওয়া সত্যিই আনন্দের। কৃতজ্ঞ ও অভিভূত।
এই পোস্টের পরপরই শুভেচ্ছা আর ভালোবাসার জোয়ারে ভেসে যান তিনি। বাংলাদেশ ও কলকাতার অভিনয়শিল্পী, নির্মাতা, সংস্কৃতিকর্মী—সবার কণ্ঠেই একটাই কথা, “এই জয়া অনন্য।
🎬 প্রায় ৯০ বছরের অপেক্ষা, পর্দায় কুসুমের পুনর্জন্ম
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৩৪–৩৫ সালে। প্রায় নয় দশক পর সেই সাহিত্যকর্ম যখন চলচ্চিত্রে রূপ নেয়, তখন কুসুম চরিত্রে জয়া আহসানের উপস্থিতি যেন উপন্যাসের পাতায় প্রাণ সঞ্চার করে।
গত বছরের আগস্টে পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে জয়ার সহশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছেন আবীর চট্টোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায় ও অনন্যা চট্টোপাধ্যায়—যাঁরা যথাক্রমে শশী, কুমুদ, যাদব ও সেনদিদি চরিত্রে দর্শকের মনে দাগ কেটেছেন।
❤️ কুসুম—একটি খোলা বই, এক সাহসী নারী
কুসুম চরিত্রটি নিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়া আহসান বলেন— সাধারণত নারীদের কেবল কামনা-বাসনার বস্তু হিসেবেই দেখানো হয়। কিন্তু কুসুমের নিজেরও কামনা-বাসনা আছে, আর সে তা লুকিয়ে রাখে না। কুসুম যেন একেবারে খোলা বই—তার মন, শরীর আর আত্মা একই সুরে বাঁধা। এখানেই শশীর সঙ্গে তার মূল পার্থক্য। কুসুম শশীর চরিত্রকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতা রাখে।
জয়ার কণ্ঠে কুসুম যেন হয়ে ওঠে সাহস, স্বাধীনতা আর প্রেমের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি—যে নারী ভীষণ খোলা মনের, সতেজ ও প্রাণবন্ত।
রুপালি পর্দায় কুসুম হয়ে যেমন জয়, বাস্তব জীবনেও তেমনি জয়জয়কার—জয়া আহসান আবারও প্রমাণ করলেন, তিনি শুধু অভিনেত্রী নন, তিনি নিজেই একটি অনুভূতি। 🌹
