ফাইল ছবি
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে দায়ের হওয়া রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার দুটি হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। তবে উচ্চ আদালত থেকে একের পর এক জামিন পেলেও জটিল আইনি প্রক্রিয়ার কারণে আপাতত কারামুক্তি মিলছে না ৮২ বছর বয়সী এই সাবেক প্রধান বিচারপতির।
বুধবার শুনানি শেষে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ‘নো অর্ডার’ দেন। ফলে হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন আদেশ বহাল থাকে।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি শেষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, ১২ মে হাইকোর্ট যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার দুটি হত্যা মামলায় যে জামিন দিয়েছিলেন, তা এখনো বহাল রয়েছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে গেলেও আদালত ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন। অর্থাৎ হাইকোর্টের দেওয়া জামিনই কার্যকর রয়েছে।
এর মধ্য দিয়ে পৃথক সাতটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি। তবে অন্য একটি মামলায় নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনকে কেন্দ্র করে আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এখনই কারামুক্তি পাচ্ছেন না তিনি।
আইনজীবী সাজু জানান, যাত্রাবাড়ী থানার হত্যা মামলার এফআইআরে খায়রুল হকের নাম ছিল না। তবে আদাবর থানার মামলায় তার নাম উল্লেখ ছিল। আগের পাঁচ মামলায় জামিন পাওয়ার পর গত ৩০ মার্চ নতুন করে এই দুই হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গত ১২ মে হাইকোর্ট তাকে এ দুই মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। পরে সেই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে।
২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওইদিনই যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আব্দুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর একে একে তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা দায়ের হয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে গত ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। একই ধরনের অভিযোগে ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় মামলা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভূঁইয়া। একই দিনে বন্দর থানায় আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা।
এছাড়া প্লট জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগে গত ৪ আগস্ট পৃথক মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে পরে হাইকোর্টে আবেদন করেন খায়রুল হক। গত ৮ মার্চ হাইকোর্ট চার মামলায় তাকে জামিন দেন। পরে ১১ মার্চ দুদকের মামলাতেও জামিন পান তিনি। ওই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলেও ২৮ এপ্রিল প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ তা খারিজ করে দেন।
সবশেষে সাত মামলায় জামিন পেলেও নতুন আইনি জটিলতায় এখনো কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে।
