বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঘুষের ১০ লাখ টাকাসহ আটকের ১৮ দিন পর দুদকের মামলা

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি 
জানুয়ারি ৭, ২০২৬ ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঘুষের ১০ লাখ টাকাসহ গোপালগঞ্জ সড়ক জোনের উপ-সহকারী প্রকৌশলীসহ তিনজনকে আটকের ১৮ দিন পর তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ৪ জানুয়ারি মামলা দায়ের করা হলেও গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে দুদকের এ তথ্য জানাজানি হয়।

দুদকের গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সোহরাব হোসেন সোহেল বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের (গোপালগঞ্জ সদর) আমলি আদালতে মামলাটি করেন।

মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ১৬১, ১৬২ ও ১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা উল্লেখ করা হয়। মামলাটি দুদকের মামলা নম্বর-১ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।

মামলায় আসামিরা হচ্ছেন–গোপালগঞ্জ সড়ক জোনের উপসহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদুল ইসলাম (৩৩), শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন মোশারফ হোসেন (৬০) ও প্রাইভেটকার চালক মনির হোসেন বেপারী (৪০)।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১৭ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের পুলিশ লাইন্স মোড়ে নিয়মিত তল্লাশির সময় একটি প্রাইভেটকার থামিয়ে তল্লাশি করে পুলিশ। এ সময় গাড়ির ভেতরে থাকা দুটি ব্যাগ থেকে মোট ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। একটি ব্যাগে দুটি খামের একটির ওপর ‘সার্কেল’ লেখা ৭ লাখ টাকা এবং অন্য ব্যাগে ‘জোন’ লেখা ৩ লাখ টাকা ছিল।

জিজ্ঞাসাবাদে গাড়িতে থাকা পিয়ন মোশারফ হোসেন অসংলগ্ন কথা বললে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয় পুলিশের। পরে পুলিশ গাড়ি ও টাকা জব্দ করে পিয়ন ও চালককে আটক করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, উদ্ধার করা টাকা গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদুল ইসলামকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আনা হচ্ছিল।

এরপর পুলিশ সড়ক জোন অফিস থেকে সাজ্জাদুল ইসলামকে আটক করে। ১৮ ডিসেম্বর ওই তিনজনকে দণ্ডবিধির ৫৪ ধারায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। জব্দকৃত টাকা, প্রাইভেটকার গোপালগঞ্জ থানার মালখানায় রয়েছে।

দুদকের মামলায় গ্রেপ্তারের অনুমতির জন্য ৪ জানুয়ারি আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আবেদন করা হলে আদালত ওই তিনজনকে মামলায় গ্রেপ্তারের অনুমোদন দেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সড়ক বিভাগের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানান, শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের একটি কাজের দরপত্র অনুমোদনের জন্য ওই টাকা গোপালগঞ্জ সড়ক জোন ও সার্কেলের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তা–অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সাদেকুল ইসলাম ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিকরুল ইসলামের কাছে পৌঁছানোর জন্য আনা হয়েছিল। টাকার খামের ওপর ‘জোন’ ও ‘সার্কেল’ লেখা থাকায় বিষয়টি আরও সন্দেহজনক হয়ে ওঠে।

তাদের দাবি, আটক ব্যক্তিরা মূলত টাকা বহনকারী ছিলেন। এ ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে জোনের উপসহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদুল ইসলামকে ফাঁসানো হয়েছে। কৌশলে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পার পেয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে একাধিকবার কল দিলেও সাড়া দেননি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সাদেকুল ইসলাম।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।