জমির সীমানা নির্ধারণ ও নামজারির কাজ করে দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ দাবি; দুদকের ফাঁদ অভিযানে ধরা পড়েন আসাদুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
ঘুষ গ্রহণের সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ফাঁদ অভিযানে হাতেনাতে গ্রেপ্তার হওয়া ঢাকার লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মো. আসাদুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব মোর্শেদ আদালতে আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আসাদুল ইসলাম লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত। জমির সীমানা নির্ধারণ ও নামজারি-সংক্রান্ত কাজ করে দেওয়ার বিনিময়ে অভিযোগকারী মো. মনিরুল ইসলামের কাছে তিনি ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।
দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘুষের টাকা হাতেনাতে ধরতে পরিকল্পিতভাবে ফাঁদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর অংশ হিসেবে গত ২ নভেম্বর ১ লাখ টাকা ইনভেন্টরি করে অভিযোগকারীকে দেওয়া হয়। পরদিন ৩ নভেম্বর বেলা ১১টার দিকে লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয়ে নিজের কক্ষে ওই টাকা গ্রহণ করেন আসাদুল। এ সময় দুদকের ফাঁদ টিম তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে।
সাইড টেবিলের ড্রয়ারে মিলল ঘুষের টাকা
অভিযান চলাকালে আসাদুল ইসলামের ব্যবহৃত ডান পাশের সাইড টেবিলের দ্বিতীয় ড্রয়ারে খাকি রঙের একটি খাম থেকে ১০০ টাকা মূল্যমানের এক হাজার নোট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা টাকার পরিমাণ ১ লাখ টাকা। নোটগুলোর নম্বর আগের দিন ইনভেন্টরি করা টাকার নম্বরের সঙ্গে মিলে যায় বলে দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আসাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বিঘ্নের আশঙ্কা
দুদকের পক্ষ থেকে আদালতে করা আবেদনে বলা হয়, আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হওয়ার পাশাপাশি মামলার তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারেন। এ কারণে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরবর্তী সময়ে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
দুদকের অভিযানে ঘুষের টাকা উদ্ধারের পর আদালতের এ আদেশের মধ্য দিয়ে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
