শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঘুষ বাণিজ্যে ২০ কোটি টাকার সম্পদের পাহাড়! কর কর্মকর্তা সাইফুলকে ঘিরে তোলপাড়, দুদকে অভিযোগের প্রস্তুতি

স্টাফ রিপোর্টার
অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ৮:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

১৩ কোটি ৭ লাখ টাকার জমি-বাড়ি ও গরুর খামারের তথ্য, ব্যাংকে আরও ৫ কোটি টাকার এফডিআর-সঞ্চয়পত্রের দাবি; সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের আহ্বান। ফাইল ছবি

ঘুষ বাণিজ্য, করদাতাদের হয়রানি ও জমি দখলের অভিযোগ—সব মিলিয়ে আলোচনায় ঢাকা কর অঞ্চল-৫-এর সার্কেল-৯৯-এর উচ্চমান সহকারী মো. সাইফুল ইসলাম। চাকরিজীবনে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর নিজের, পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা এবং কথিত বেনামি জমি, বাড়ি ও গরুর খামারসহ দৃশ্যমান সম্পদের আনুমানিক মূল্য ১৩ কোটি ৭ লাখ টাকা। পাশাপাশি স্ত্রী ও নিকটজনদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে প্রায় ৫ কোটি টাকার এফডিআর, সঞ্চয়পত্র ও নগদ অর্থ থাকার দাবিও করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১৮ কোটি টাকার সম্পদের হিসাব সামনে আনা হলেও শিরোনামে উল্লিখিত ২০ কোটি টাকার দাবির পূর্ণাঙ্গ হিসাব স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগকারীদের দাবি, করদাতাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ আদায়, ঘুষ গ্রহণ এবং হয়রানির মাধ্যমে সাইফুল ইসলাম বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। অভিযোগে কর কমিশনার ও ডেপুটি কর কমিশনারের নাম ব্যবহার করে করদাতাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর থানাধীন পলশিয়া পশ্চিমপাড়ার মো. ছোবহানের ছেলে সাইফুল ইসলামের বয়স ৪৫ বছর বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, চাকরিজীবনের প্রায় এক যুগের মধ্যে তিনি জমি, বাড়ি, গরুর খামার ও আর্থিক বিনিয়োগের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ, মালিকানা এবং অর্থের উৎস যাচাইয়ের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত দাবি করা হচ্ছে।

১৩ কোটি ৭ লাখ টাকার সম্পদ, আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য কতটুকু?

অভিযোগে সাইফুল ইসলামের নামে, পরিবারের সদস্যদের নামে এবং কথিত বেনামি মালিকানায় থাকা বিভিন্ন সম্পদের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জমি, প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের একটি বাড়ি এবং গরুর খামার। এসব সম্পদের মোট আনুমানিক মূল্য ১৩ কোটি ৭ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, একজন সরকারি কর্মচারীর চাকরিজীবনের আয়, পারিবারিক আর্থিক সামর্থ্য ও ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে এত বিপুল সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না। তাঁর আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক হিসাব, জমির দলিল, নামজারি এবং বাড়ি নির্মাণের ব্যয়ের তথ্য যাচাই করা হলে এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

তবে অভিযোগে উল্লিখিত সম্পদের মূল্য, মালিকানা ও অর্থের উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। তাই প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি পরীক্ষা করা জরুরি।

১১ শতাংশ জমিতে গরুর খামার, জমির মূল্য দাবি দেড় কোটি টাকা

অভিযোগে বলা হয়েছে, সাইফুল ইসলামের নিজ বাড়ির পাশে প্রায় ১১ শতাংশ জমিতে একটি গরুর খামার রয়েছে। ওই জমির আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। খামারটিতে চারজন কর্মচারী কাজ করেন এবং তাঁদের পেছনে মাসে প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয় হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

খামারটির মালিকানা, প্রতিষ্ঠার সময়, নির্মাণ ও পরিচালন ব্যয়, গবাদিপশুর সংখ্যা এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা। খামার থেকে অর্জিত আয় সম্পদের উৎসের অংশ কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা যেতে পারে।

২ কোটি টাকার বাড়ি, নির্মাণব্যয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

সাইফুল ইসলামের একটি বাড়ির আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বাড়িটির জমির মালিকানা, নির্মাণকাল, নির্মাণব্যয় এবং অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

তাঁদের দাবি, চাকরিজীবনের আয় ও আয়কর নথিতে ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে বাড়িটির মূল্য ও নির্মাণব্যয়ের হিসাব মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট দলিল, নির্মাণব্যয়ের নথি, ব্যাংক লেনদেন এবং অর্থায়নের উৎস যাচাই করা হলে অভিযোগটির বাস্তব ভিত্তি নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

ভারারিয়ায় এক বিঘা, মাইজবাড়ীতে দুই বিঘা জমির তথ্য

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ভারারিয়া এলাকায় সাইফুল ইসলামের প্রায় এক বিঘা জমি রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৫০ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মাইজবাড়ীতে প্রায় দুই বিঘা জমি থাকার অভিযোগও রয়েছে। ওই জমির মূল্যও প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া বাড়ির আশপাশে প্রায় ২০ শতাংশ, কবরস্থানসংলগ্ন ১০ শতাংশ এবং পলশিয়া বাজারের প্রধান সড়কের পাশে প্রায় ১৬ শতাংশ জমির তথ্য অভিযোগে দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব জমির দলিল, প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়মূল্য, বর্তমান বাজারমূল্য এবং অর্থ পরিশোধের উৎস যাচাই করা প্রয়োজন। তাঁদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, জমি, বাড়ি ও অন্যান্য সম্পদ মিলিয়ে মোট সম্পদের মূল্য প্রায় ১৩ কোটি ৭ লাখ টাকা। তবে সম্পদগুলোর পৃথক মূল্যায়ন ও মালিকানার নথি যাচাই ছাড়া এই হিসাবকে চূড়ান্ত বলে বিবেচনা করা যাবে না।

সম্পদের পাশাপাশি জমি দখলের অভিযোগ

সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগের পাশাপাশি জমি দখল ও জোরপূর্বক জমি নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে কবরস্থানের পাশে থাকা একটি জমি জোরপূর্বক নেওয়ার দাবি করা হয়েছে। অন্য একটি ঘটনায় তিন ভাইকে বঞ্চিত করে তাঁদের বাবার কাছ থেকে জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া মৃত ছামান আলীর ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেনের প্রায় ৬ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল বা নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে জমির দলিল, মালিকানার ধারাবাহিকতা, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং আদালতে কোনো মামলা বা আদেশ থাকলে সেগুলো যাচাই করা প্রয়োজন। জমি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ থাকলেও যথাযথ প্রমাণ ও বিচারিক সিদ্ধান্ত ছাড়া কাউকে দখলদার হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়।

১৪ শতাংশ জমি নিয়ে আদালতে মামলা, চারজনের নাম

জমি নিয়ে বিরোধের একটি ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। গোপালপুর থানার আমলি আদালতে মো. হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে মো. সাইফুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে জানানো হয়েছে। মামলায় অন্য যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন রুহুল আমিন, আবু বকর মিয়া ও শাহজাহান।

মামলার নথি সম্পর্কে অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাইজবাড়ীর ১৪ শতাংশ জমির মালিকানা ও দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিরোধের পর আদালতের নোটিশে উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নালিশি ভূমিতে যে যার দখল বজায় রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং গোপালপুর থানা আমলি আদালতে পৃথক দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বাদী হাফিজুর রহমানের দাবি, সাইফুল ইসলাম আয়কর বিভাগের উচ্চমান সহকারী পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে মামলা দুটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

তবে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। মামলার নথি, আদালতের আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে বিষয়টি উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

স্ত্রী ও নিকটজনদের নামে ৫ কোটি টাকার এফডিআর-সঞ্চয়পত্রের দাবি

অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো স্ত্রী ও নিকটজনদের নামে থাকা আর্থিক সম্পদ। অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যাংকে প্রায় ৫ কোটি টাকার এফডিআর, সঞ্চয়পত্র ও নগদ অর্থ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া পোস্ট অফিসে কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র থাকার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট আর্থিক হিসাব ও সঞ্চয়পত্রের নথি যাচাই করা হলে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

তবে স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদ থাকলেই তা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মচারীর অবৈধ সম্পদ বলে গণ্য হয় না। অর্থের উৎস, প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকানা, আয়কর নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক সামর্থ্য যাচাইয়ের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

ঘুষ বাণিজ্য ও করদাতাদের হয়রানির অভিযোগ

সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে করদাতাদের বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কর কমিশনার ও ডেপুটি কর কমিশনারের নাম ব্যবহার করে করদাতাদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়ে থাকে।

অভিযোগে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ঘুষ বাণিজ্য ও ব্ল্যাকমেইলিং হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট করদাতার লিখিত অভিযোগ, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট নথি বা তদন্তের ফলাফল ছাড়া এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এ ক্ষেত্রে করদাতাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর নথি, দাপ্তরিক যোগাযোগ এবং আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা করা হলে প্রকৃত ঘটনা নিরূপণ করা যেতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুযায়ী বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

দুদক, এনবিআর ও কর গোয়েন্দাদের তদন্ত দাবি

অভিযোগে উল্লিখিত সম্পদ, আর্থিক লেনদেন ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কর গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, শুধু সম্পদের পরিমাণ নির্ধারণ করলেই হবে না। এসব সম্পদ কীভাবে অর্জিত হয়েছে, অর্থের উৎস কী এবং আয়কর নথিতে সেগুলোর যথাযথ ঘোষণা রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।

এ জন্য সাইফুল ইসলামের আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী, জমির দলিল, নামজারি, বাড়ি নির্মাণের ব্যয়, গরুর খামারের আয়-ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে স্ত্রী ও নিকটজনদের নামে থাকা সম্পদের প্রকৃত মালিকানা ও অর্থের উৎস যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা মনে করছেন।

বিভাগীয় তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কি?

একজন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, করদাতাদের হয়রানি, জমি দখল এবং আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কর প্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারী কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জনআস্থা বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে প্রথমে সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত, আয় ও ব্যয়ের তুলনামূলক বিশ্লেষণ, জমির মালিকানা যাচাই এবং ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্রের তথ্য পরীক্ষা করা যেতে পারে। পাশাপাশি জমি-সংক্রান্ত মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা ও আদালতের আদেশ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্তের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তবে অভিযোগের বিষয়ে সাইফুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা জরুরি। অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য, নথিপত্র এবং তদন্তের ফলাফল ছাড়া কাউকে দুর্নীতিবাজ হিসেবে চূড়ান্তভাবে আখ্যায়িত করা ন্যায়সংগত নয়।

সব মিলিয়ে, প্রায় ১৩ কোটি ৭ লাখ টাকার দৃশ্যমান সম্পদ এবং আরও ৫ কোটি টাকার আর্থিক সম্পদের যে দাবি সামনে এসেছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব ও অর্থের উৎস যাচাই করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে; আর অভিযোগের ভিত্তি না পাওয়া গেলে সেটিও স্বচ্ছভাবে জানাতে হবে। নিরপেক্ষ তদন্তই পারে সম্পদের প্রকৃত চিত্র উন্মোচন করতে এবং কর প্রশাসনে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।