চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) কাছে নগরীর ১০৮টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন বসবাসের অনুপযোগিতে পরিণত হয়েছে। দেশের কোথাও ভূমিকম্প হলেই নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় সংস্থাটিকে। তবে নগরীতে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য চউকের কাছ থেকে অনুমোদন নেওয়ার বিধান থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ বা জরাজীর্ণ ভবন অপসারণের এখতিয়ার সংস্থাটির নেই। এ দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক)। এ কারণে দীর্ঘদিনের পুরাতন ও বিভিন্ন সময় হেলে পড়া ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণের জন্য চিঠি পাঠিয়ে আসছে চউক। শুরুতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা কম থাকলেও বর্তমানে তা এসে দাঁড়িয়েছে ১০৮টিতে। যদিও নগরীতে কী পরিমাণ ভবন বিল্ডিং কোড না মেনে নির্মাণ করা হয়েছে বা কী পরিমাণ ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে, তার কোনো পরিসংখ্যান চউক বা চসিকের কাছে নেই।
এসব অনিয়মের বিষয় নিয়ে কখনো জরিপও করেনি এ দুই সেবা সংস্থা। চউকের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক চট্টগ্রাম নগরীতে তিন লাখ ৮২ হাজার ১১১টি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে একতলা ভবন রয়েছে দুই লাখ ৭৮ হাজার ৫টি, দুই থেকে পাঁচতলাবিশিষ্ট ভবন রয়েছে ৯০ হাজার ৪৪৪টি, ছয় থেকে ১০তলা পর্যন্ত ভবন রয়েছে ১৩ হাজার ১৩৫, ১০তলার ওপরে ভবন রয়েছে ৫২৭টি এবং ২০তলার বেশি ভবন রয়েছে ১০টি। এসব ভবনের মধ্যে বিভিন্ন সময় ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত হওয়া ভবনের তালিকা তৈরি করেছে আসছে চউক।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রামে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে উদ্ধার তৎপরতার জন্য ফায়ার সার্ভিসের কাছে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই। চউকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও ইমারত নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান এজিএম সেলিম বলেন, ‘চউক থেকে অনুমোদন নেওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হয় না। বিল্ডিং কোড না মেনে বহুতল ভবন তৈরি করা হলেও এগুলো দেখার জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় লোকবল নেই।
এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, চউকের অথরাইজড অফিসার-২ তানজিব হোসেন বলেন, ‘২০০৪ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত ১০৮টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ভাঙা বা অপসারণের এখতিয়ার সিটি করপোরেশনের। চসিকের প্রধান প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান সোহেল বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কিছু ভবন মামলার কারণে আইনি প্রক্রিয়া ঝুলে আছে। আমরা ভবন মালিকদের তাগাদা দিয়েছি। তারা যদি না ভাঙে আমরা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ভাঙার ব্যবস্থা করব।
