একের পর এক অপহরণের ঘটনায় আতঙ্কিত কক্সবাজারের টেকনাফবাসী। দ্রুত সময়ের মধ্যে অপহরণ বন্ধের দাবিতে বুধবার মেরিন ড্রাইভ সড়ক অবরোধ করেন তারা। বিকেলে বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর মেজর সিনহা চত্বরে মানববন্ধন শেষে এই কর্মসূচি পালিত হয়।কর্মসূচিতে ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন হাতে অংশ নেন। এতে পর্যটকবাহী ও যাত্রীবাহী গাড়ি চলাচল কিছু সময় বন্ধ থাকে। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব উখিয়া-টেকনাফ (ডুসাট) সভাপতি জয়নাল উদ্দিন বলেন, ‘কোনোভাবে আমরা আর অপহরণ চাই না। আমাদের ভাইদের ফেরত চাই। দিন দিন এখানে বসবাস অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। অপহরণসহ অপরাধ রোধে আমরা সেনাবাহিনীর চৌকিসহ বিশেষ অভিযানের দাবি করছি। অন্যথায় আমার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হবে।’
এলাকাবাসীর ভাষ্য, মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিক (রোহিঙ্গা) অধ্যুষিত বাহারছড়ায় সম্প্রতি অপহরণের ঘটনা বাড়ছে। সর্বশেষ গত রোববার শিশুসহ চারজনকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা তুলে নিয়ে যায়। গত এক বছরে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৬৪ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন। তাদের বেশির ভাগই পরে মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পান।
শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও টেকনাফ উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি এম এ মঞ্জুর বলেন, ‘বাহারছড়া পর্যটন এলাকা। অপহরণের ঘটনা বাড়ার কারণে এখানে আসতে ভয় পাচ্ছেন পর্যটকেরা। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করা মানুষের নির্ঘুম রাত কাটছে। শিশুরা রাতে স্কুল-মাদ্রাসায় আশ্রয় নিচ্ছে, পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। আমরা এই ভয় থেকে মুক্তি চাই।’
বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, ‘৫০ হাজার মানুষের মধ্যে অপহরণে জড়িত ব্যক্তির সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০০ জন। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ হন, তারা কোনোভাবেই এই রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করতে পারবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালালে তারা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন।’
কর্মসূচিতে অপহরণ রোধে ছয় দফা দাবি তোলেন এলাকাবাসী। এগুলোর মধ্যে আছে–২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপহৃত চারজনকে অক্ষত অবস্থায় বিনা মুক্তিপণে ফিরিয়ে আনা, অপহরণ চক্রের সহযোগী স্থানীয় এজেন্টদের দ্রুত গ্রেপ্তার, অপহরণে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি–আমৃত্যু কারাদণ্ড, পাহাড়ে সপ্তাহব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান ও সার্বক্ষণিক সেনাবাহিনীর টহল জোরদার। এ ছাড়া মুক্তিপণের বিনিময়ে উদ্ধারের পর ভিকটিম নির্যাতন বন্ধ ও নির্দিষ্ট সময়ে উদ্ধারে ব্যর্থ হলে দায়িত্বরত কর্মকর্তাসহ টেকনাফ থানার পুলিশ টিমকে অপসারণ।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর বলেন, ‘অপহরণ বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচির যৌক্তিকতা আছে। আমরা সমর্থন করি। পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ না রাখার জন্য স্থানীয়দের অনুরোধ জানাই।’
