দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন সংসদ সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত
বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই স্মরণ করা হলো রাজনীতি, সংস্কৃতি ও সমাজের বিশিষ্টজনদের
বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই শোকের আবহে শুরু হলো জাতীয় সংসদের কার্যক্রম। দেশের রাজনীতি, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও সমাজের বিভিন্ন অঙ্গনের প্রয়াত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে সংসদ। একই সঙ্গে রাজধানীর পল্লবী, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার চার শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুতেও শোক জানিয়েছে জাতীয় সংসদ।
রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সরকারি ও বিরোধী দলের সমর্থনে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। পরে প্রয়াতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন সংসদ সদস্যরা। সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান মোনাজাত পরিচালনা করেন।
শোক প্রস্তাবে যাদের স্মরণ করা হলো
সংসদের গৃহীত শোক প্রস্তাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, মোশাররফ হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম রহমত উল্লাহ, দবিরুল ইসলাম, এ বি এম আনোয়ারুল হক ও মোসলেম উদ্দিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।
এ ছাড়া বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা, অধ্যাপক এম এ মান্নান, সাবেক এমপি দেওয়ান শামসুল আবেদীন, জি এম ফজলুল হক, জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি সৈয়দ মো. কায়সার, আবু নূর মোহাম্মদ বাহাউল হক ও গোলাম সারোয়ার মিলন এবং সিপিবির সাবেক এমপি মো. সামসুদ্দোহার মৃত্যুতেও সংসদ শোক জানায়।
শোক প্রস্তাবে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী শফিক আহমেদ এবং দশম সংসদের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আবদুল মতিনের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সংস্কৃতি, শিক্ষা ও সমাজের বিশিষ্টজনদের প্রতিও শ্রদ্ধা
সংসদের শোক প্রস্তাবে জাতীয় অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদ, কবি হেলাল হাফিজ, ছায়ানটের সভাপতি সনজীদা খাতুন, সংগীতশিল্পী মুস্তাফা জামান আব্বাসী, লেখক বদরুদ্দীন উমর, নজরুলসংগীত শিল্পী ডালিয়া নওশীন, বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা আব্দুল কুদ্দুস, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেনের মা বেগম জেবুন্নেছা, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, সংঘরাজ ড. জ্ঞানশ্রী মহাস্থবির এবং সাংবাদিক গাজী রুহুল আমিনের মৃত্যুতেও গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।
এ ছাড়া স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের স্ত্রী অধ্যাপক দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে পৃথকভাবে শোক জানানো হয়।
তোফায়েল আহমেদকে নিয়ে সংসদের বিশেষ মূল্যায়ন
তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে গৃহীত শোক প্রস্তাবে বলা হয়, “বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী তোফায়েল আহমেদ উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। ছাত্ররাজনীতির সঙ্গেও তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।
প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়, মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্টের অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। পরে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
সংসদের শোক প্রস্তাবে বলা হয়, “বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে দেশ একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজসেবককে হারাল। এ সংসদ তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ, বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করছে।
সংসদ সূত্রে জানা গেছে, গৃহীত শোক প্রস্তাবের অনুলিপি তোফায়েল আহমেদের পরিবারের কাছে পাঠানো হবে।
চার শিশুর মৃত্যুতে সংসদের বেদনা
রাজধানীর পল্লবী, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার চার শিশুর মৃত্যুতেও গভীর শোক প্রকাশ করেছে জাতীয় সংসদ। শোক প্রস্তাবে এসব নির্মম ঘটনার প্রতি সংসদের বেদনা ও উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটে।
বাজেট অধিবেশনের সূচনাতেই শোক, শ্রদ্ধা ও স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতি, সংস্কৃতি ও সমাজের নানা অঙ্গনের অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্মরণ করল জাতীয় সংসদ।
