সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগের কেন্দ্রে শফিকুল ইসলাম। দুদকের তদন্ত ও সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের দাবি। ফাইল ছবি
দলিল নিবন্ধনকে কেন্দ্র করে ঘুষ আদায়, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলো থেকে নিয়মিত অর্থ সংগ্রহ এবং নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে জেলা রেজিস্ট্রার শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জগন্নাথপুরের বাসিন্দা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী, দলিল লেখক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, দলিল নিবন্ধনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থ আদায়ের একটি অনিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, যার মাধ্যমে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা, সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ এবং অর্থ আদায়ের সঙ্গে শফিকুল ইসলামের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তাঁর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
দলিলপ্রতি ২,৫০০ টাকা, মাসে কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ
অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রারের অধীন বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতি মাসে বিপুলসংখ্যক দলিল সম্পাদন হয়। এসব দলিল নিবন্ধনের বিপরীতে দলিলপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ‘নাশতা খরচ’ নামে অর্থ আদায় করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, জেলা রেজিস্ট্রারের একজন সহকারীর মাধ্যমে মাস শেষে এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোতে মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার দলিল সম্পাদন হলে এই হিসাবে অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় কয়েক কোটি টাকা। তবে দলিলের প্রকৃত সংখ্যা, অর্থ আদায়ের পদ্ধতি এবং সংগৃহীত অর্থ কার কাছে যেত—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য নথি বা স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রারের অধীন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর মধ্যে সদর, উত্তরা, খিলগাঁও, বাড্ডা, তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, সূত্রাপুর, গুলশান, ধানমন্ডি, পল্টন, মিরপুর, ডেমরা, শ্যামপুর, কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ, কেরানীগঞ্জ মডেল, নবাবগঞ্জ, দোহার, সাভার, আশুলিয়া ও কালামপুরসহ বিভিন্ন কার্যালয়ের নাম অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সদর রেকর্ডরুম ও ঢাকা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কথাও রয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিটি দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে গড়ে ৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া এবং অর্থ না দিলে দলিল বাতিলের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। প্রতিটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে মাসে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা করে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোর বক্তব্য ও নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
সাব-রেজিস্ট্রার থেকে জেলা রেজিস্ট্রার: পদোন্নতি ও কর্মস্থল বদলের পেছনে তদবিরের অভিযোগ
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। পরবর্তী সময়ে তৎকালীন জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের মাধ্যমে তদবির করে ২০২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এরপর নাটোর জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগদানের পর তাঁর বিরুদ্ধে নামে-বেনামে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর প্রভাব ও সংশ্লিষ্টতার কারণে দুর্নীতির অভিযোগগুলো যথাযথভাবে তদন্তের আওতায় আসেনি।
তবে পদোন্নতি বা বদলির ক্ষেত্রে অনিয়ম কিংবা অর্থ লেনদেনের অভিযোগের পক্ষে কোনো যাচাইকৃত নথি এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি।
ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সম্পদের অভিযোগ
শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন স্থানে বাড়ি, ফ্ল্যাট, জমি, মার্কেট এবং ব্যবসায়িক সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
অভিযোগে উল্লেখিত সম্পদের মধ্যে রয়েছে—
ঢাকায়: কল্যাণপুরের ১২ নম্বর বাসা, ২ নম্বর সড়ক, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ড্রিম হেভেন ভবনে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট থাকার দাবি করা হয়েছে। মোহাম্মদপুরে একটি বাড়ির কথাও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গায়: নিজ জেলা চুয়াডাঙ্গা সদরের কাঠপট্টি এলাকায় চারতলা বাড়ি এবং কার্পাসডাঙ্গা বাজারে মার্কেটসহ চারতলা ভবন থাকার অভিযোগ রয়েছে। আট কবর এলাকায় মার্কেটসহ দোতলা ভবন এবং নিজ গ্রাম জগন্নাথপুরে বিলাসবহুল দোতলা বাড়ির কথাও বলা হয়েছে।
যশোর ও ঝিনাইদহে: একাধিক বাড়ি থাকার অভিযোগ করেছেন অভিযোগকারীরা।
মেহেরপুরে: মুজিবনগর উপজেলার আনন্দবাস গ্রামে তাঁর ভাইয়ের নামে বিপুল পরিমাণ জমি কেনার অভিযোগ রয়েছে। জমির মালিকানা, ক্রয়মূল্য ও অর্থের উৎস যাচাই করা প্রয়োজন।
পরিবার ও ব্যবসা: তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া ইসলামের নামে ঢাকা মেট্রো-গ-২৫-৬১৬৬ নম্বরের একটি গাড়ি থাকার কথা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই ছেলে মাহি ও মুহিতের নামে সম্পদ অর্জনের বিষয়েও অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।
এ ছাড়া ভাগিনা মো. হুমায়ুন আহমেদের মাধ্যমে ‘নেহা ত্বহা ট্রেডার্স’ নামে কোটি টাকার ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। একাধিক বেনামি ব্যাংক হিসাব ব্যবহারের দাবিও করা হয়েছে।
এসব সম্পদের মালিকানা, বাজারমূল্য, ক্রয়ের সময় এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে যাচাইকৃত দলিল বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া না গেলে অভিযোগগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
ফরিদপুরে দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতির অভিযোগ
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শফিকুল ইসলাম আইজিআর অফিসের অনুমতি ছাড়াই আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর ফরিদপুর জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগদানের পর তাঁর অধীন বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ বাড়তে থাকে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
ফরিদপুর সদরসহ জেলার কয়েকটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং দুদকে মামলা দায়েরের প্রসঙ্গও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট মামলা, আসামিদের পরিচয়, অভিযোগের প্রকৃতি ও তদন্তের অগ্রগতি যাচাই করে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অনিয়মের নেপথ্যে জেলা রেজিস্ট্রারের ভূমিকা থাকলেও তিনি সরাসরি জবাবদিহির আওতায় আসেননি। এই দাবির সত্যতা নির্ধারণে তদন্তের ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট নথি গুরুত্বপূর্ণ।
জুলাই আন্দোলন ঘিরেও গুরুতর অভিযোগ
শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন নস্যাৎ করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের কিছু যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর সঙ্গে গোপন বৈঠক এবং অর্থায়নের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আন্দোলনের সময় বিশেষ মহলের নির্দেশে অর্থ ব্যয় ও রাজনৈতিক তৎপরতায় তাঁর সংশ্লিষ্টতা ছিল। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে যাচাইকৃত নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো তদন্তের ফলাফল এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি।
তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
দুদকে অভিযোগ, তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন
শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দাখিল এবং তথ্যপ্রমাণ সরবরাহ করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ এবং দুদকে অভিযোগ জমা দেওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে দুদকের কিছু কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীকে অর্থের বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগও রয়েছে।
তবে দুদকে দাখিল করা অভিযোগের কপি, তদন্তের বর্তমান অবস্থা কিংবা কথিত অর্থ লেনদেনের প্রমাণ যাচাই করা সম্ভব হয়নি। দুদকের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট নথি ছাড়া তদন্ত স্থগিত, প্রভাবিত বা অর্থের বিনিময়ে পরিচালিত হওয়ার অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বলা যায় না।
ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দুদকের অভিযান
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়, তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে দুদকের অভিযান পরিচালিত হয়। ওই সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমের সামনে কথা বলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, ২০২৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর নিবন্ধন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে হালনাগাদ তালিকায় তাঁকে ফরিদপুর জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে দেখানো হয়েছিল। এ অবস্থায় ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে কর্মস্থল পরিবর্তন, দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট পদায়ন আদেশের সত্যতা নিশ্চিত করতে নিবন্ধন অধিদপ্তরের সরকারি নথি ও আদেশ যাচাই করা জরুরি।
সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার দাবি
গত ৯ সেপ্টেম্বর পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সিনিয়র সাংবাদিক জিএম রফিকুল ইসলামের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
অভিযোগে মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের উমেদার আওলাদ ওরফে ব্লেট আওলাদ, সদর রেজিস্ট্রি অফিসের রাসেল ওরফে পটু রাসেল, লম্বু রাসেল ওরফে ইয়াবা রাসেল, তেজগাঁওয়ের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার শফীর ব্যক্তিগত চালক কামাল ওরফে মাতাল কামাল, ট্যাবলেট হামিদ এবং পল্লবী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ব্লেট রাজিবসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্সের উমেদারদের একটি সংগঠনের কয়েকজনের বিরুদ্ধেও হামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অভিযোগের পরও জেলা রেজিস্ট্রার শফিকুল ইসলাম অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেননি। তবে হামলার ঘটনা, অভিযুক্তদের পরিচয়, মামলা বা সাধারণ ডায়েরি এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ: হয়রানি ও দুর্ব্যবহার
জেলা রেজিস্ট্রার শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ আদায়, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
তাঁদের দাবি, দলিল নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ দিতে চাপ সৃষ্টি করা হয়। অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে দলিল বাতিল বা নিবন্ধন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দলিল নিবন্ধনের সরকারি ফি, সংশ্লিষ্ট অফিসের রসিদ, সেবাগ্রহীতাদের লিখিত অভিযোগ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
‘অফিস শেষে তল্লাশি করলে ধরা পড়বে’—ভুক্তভোগীর দাবি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী ও দলিল লেখক সমিতির একজন শীর্ষ নেতা দাবি করেছেন, প্রতি বৃহস্পতিবার অফিস শেষে জেলা রেজিস্ট্রার ও তাঁর সহকারীর চলাচল এবং সঙ্গে থাকা অর্থের বিষয়ে অনুসন্ধান করলে অনিয়মের তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
তাঁর ভাষ্য, দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিমের মাধ্যমে আইনসম্মতভাবে যাচাই ও অনুসন্ধান চালানো হলে কথিত অবৈধ অর্থের উৎস সম্পর্কে তথ্য উদ্ঘাটিত হতে পারে।
এটি অভিযোগকারীর বক্তব্য। কোনো ব্যক্তিকে তল্লাশি, আটক বা গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করা আবশ্যক।
বর্তমান পদ ও কর্মস্থল নিয়ে অসংগতি
প্রতিবেদনের প্রাথমিক তথ্যের একাংশে শফিকুল ইসলামকে ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে উল্লেখ করা হলেও শেষাংশে তাঁর বর্তমান কর্মস্থল কিশোরগঞ্জ বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিবন্ধন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে তাঁকে ফরিদপুর জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে দেখানোর কথাও বলা হয়েছে।
এই তিনটি তথ্যের মধ্যে অসংগতি রয়েছে। ফলে তাঁর বর্তমান পদায়ন, দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ এবং কর্মস্থল সরকারি আদেশের মাধ্যমে নিশ্চিত না করে চূড়ান্ত সংবাদে নির্দিষ্ট কর্মস্থল উল্লেখ করা সমীচীন নয়।
শফিকুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে শফিকুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে অভিযোগকারী সূত্র জানিয়েছে।
তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর অবস্থান, সম্পদের উৎস, সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোর কার্যক্রম এবং পদায়নসংক্রান্ত তথ্য প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।
নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি
একজন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দলিলপ্রতি ঘুষ, নিয়মিত অর্থ আদায়, অবৈধ সম্পদ অর্জন, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং তদন্ত প্রভাবিত করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে দুদক, নিবন্ধন অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান জরুরি।
ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, শফিকুল ইসলামের নামে-বেনামে থাকা সম্পদের মালিকানা ও অর্থের উৎস যাচাই, সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনা হোক।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগের কোনো ভিত্তি না থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দায়মুক্তি দেওয়ার স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাই হবে জনস্বার্থ ও প্রশাসনিক জবাবদিহির দাবি।
