ফাইল ছবি
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ঘিরে উত্তাল জনতা, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগে পুড়ল ‘ভণ্ডপীরের’ আস্তানা—পুলিশের সামনেই ভয়াবহ সহিংসতা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে যেন হঠাৎই জ্বলে উঠল ক্ষোভের আগুন—আর সেই আগুনে ঝলসে গেল এক বিতর্কিত জীবনের শেষ অধ্যায়। কোরআন অবমাননার অভিযোগ ঘিরে বিক্ষুব্ধ জনতার আঘাতে নিহত হয়েছেন কথিত পীর শামীম রেজা (জাহাঙ্গীর)।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে ঘটে যায় এই হৃদয়বিদারক ও উত্তাল ঘটনা। উত্তেজিত জনতার রোষানলে পড়ে শুধু একজন ব্যক্তি নয়, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় তার গড়ে তোলা আস্তানাও। ক্ষোভের আগুনে পুড়ল আস্তানা।

জাহাঙ্গীরের আস্তানায় আগুন জ্বালিয়ে দেয় জনতা
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই শামীম রেজার বিরুদ্ধে ইসলামবিরোধী বক্তব্য ও ধর্ম বিকৃতির অভিযোগ ছিল। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত বিস্ফোরক হয়ে ওঠে।
ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ যেন হঠাৎই আগ্নেয়গিরির মতো বিস্ফোরিত হয়। উত্তেজিত জনতা তার আস্তানায় হামলা চালায়, ভাঙচুর করে এবং একপর্যায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এ সময় শামীম রেজা (জাহাঙ্গীর) ও তার অনুসারীদের ওপর চলে বেধড়ক মারধর। পরিস্থিতি এমন ভয়াবহ রূপ নেয় যে, শেষ পর্যন্ত জনতার আঘাতেই তার মৃত্যু ঘটে।
পুলিশের উপস্থিতিতেই সহিংসতা
এদিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি তারা দেখেছেন এবং প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি অনেক পুরোনো।
তিনি বলেন, ভিডিওটি ঘিরেই জনতার মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তারা আস্তানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিতর্কিত অতীত, নতুন পরিণতি- স্থানীয়দের দাবি, শামীম রেজা দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করার পর এলাকায় ফিরে এসে একটি আস্তানা গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে বিতর্কিত ধর্মীয় কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন।
তবে এর আগেও ২০২১ সালের মে মাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরে দীর্ঘদিন কারাভোগ শেষে তিনি মুক্তি পান এবং পুনরায় এলাকায় ফিরে একই ধরনের কর্মকাণ্ড শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
শোক, ক্ষোভ আর প্রশ্ন- এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি। কোথাও চাপা ভয়, কোথাও উত্তেজনার রেশ—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত ভারী নীরবতা। এলাকাবাসীর দাবি, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়— একটি ভিডিও, একগুচ্ছ অভিযোগ, আর জমে থাকা ক্ষোভ—এসব মিলেই কি এমন রক্তাক্ত পরিণতির জন্ম দিল? আইনের আগে জনতার বিচার—এই পথ কি শেষ পর্যন্ত সমাজকে শান্তি দেয়, নাকি রেখে যায় আরও গভীর অস্থিরতার বীজ?
