ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুই ভাইকে ১০ কাঠার দুটি প্লট বরাদ্দের অভিযোগ | জামিন বাতিল, আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি। ফাইল ছবি
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এম এ হাসেমের দুই ছেলে শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজ রুবেলসহ আটজনকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডিত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক চেয়ারম্যান ইকবালউদ্দিন চৌধুরী এবং সংস্থাটির সাবেক পাঁচ সদস্য।
মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকার নবম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আব্দুস সালাম এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার দিন আসামিরা আদালতে উপস্থিত না থাকায় তাঁদের জামিন বাতিল করে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
দণ্ডিত আটজন যারা
দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য পাঁচজন হলেন—রাজউকের সাবেক সদস্য (উন্নয়ন) এস ডি ফয়েজ, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) এ কে এম ওয়াহেদুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (অর্থ) এস এম জাফর উল্লাহ, সাবেক সদস্য (প্রশাসন ও ভূমি) এইচ এম জহুরুল হক এবং সাবেক সদস্য (এস্টেট) রেজাউল করিম তরফদার।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, রাসেল ও রুবেলের নামে পূর্বাচল প্রকল্পে ১০ কাঠা করে দুটি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। বৈধ আবেদনকারীদের সুযোগ না দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তাঁদের অনুকূলে এসব প্লট বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয় রাজউকের সংশ্লিষ্ট সাবেক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
দুই ভাইয়ের নামে দুটি প্লট
শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজ রুবেল প্রয়াত এম এ হাসেমের ছেলে। রাসেল আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। তিনি বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন। অন্যদিকে রুবেল পারটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিটি ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে রাজউকের তৎকালীন চেয়ারম্যান ইকবালউদ্দিন চৌধুরী এবং সংশ্লিষ্ট সদস্যরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাসেল ও রুবেলের নামে প্লট দুটি বরাদ্দ দেন। ওই সময় তাঁদের বাবা এম এ হাসেম নোয়াখালী-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন।
অপরাধমূলক অসদাচরণ ও বিশ্বাসভঙ্গের দায়ে সাজা
দুদকের কৌঁসুলি খন্দকার শামীম হোসেন জানান, অপরাধমূলক অসদাচরণের দায়ে আট আসামিকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁদের আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এ ছাড়া অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের দায়েও তাঁদের সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছর কারাভোগ করতে হবে বলে জানান তিনি।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম মিঠু বলেন, আসামিরা জামিনে ছিলেন। তবে রায় ঘোষণার দিন তাঁরা আদালতে হাজির হননি। এ কারণে আদালত তাঁদের জামিন বাতিল করে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
যেভাবে শুরু হয় মামলা
পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তৎকালীন উপপরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস মতিঝিল থানায় মামলাটি করেন।
তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর দুদকের তৎকালীন উপপরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ২০১৯ সালের ২৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।
মামলার বিচার চলাকালে আদালত মোট নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ, আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মঙ্গলবার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়।
পূর্বাচল প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা এ মামলার রায়ে রাজউকের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা ও বেসরকারি শিল্পগোষ্ঠীর দুই প্রভাবশালী ব্যক্তিসহ আটজনের দণ্ডিত হওয়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
