ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ফাইল ছবি: এএফপি
বিশ্বরাজনীতির উত্তপ্ত প্রেক্ষাপটে যেন এক অদ্ভুত মিশ্রণ—যুদ্ধের আগুন আর দেশপ্রেমের গভীর আবেগ। মার্কিন হুমকির জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian এমন এক ঘোষণা দিলেন, যা শুধু রাজনৈতিক বার্তা নয়—বরং যেন এক আবেগঘন অঙ্গীকার, মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার এক তীব্র প্রকাশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি ইরানি নাগরিক এই অভিযানে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। আমিও ইরানের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত ছিলাম, আছি এবং থাকব। এই কথাগুলো যেন শুধু একটি বিবৃতি নয়—বরং প্রেমিকের মতো মাতৃভূমিকে ভালোবাসার এক অদম্য প্রতিশ্রুতি।
প্রায় ৯ কোটি মানুষের দেশে এই দেড় কোটির আত্মত্যাগের ঘোষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তৈরি করেছে নতুন আলোড়ন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি সংখ্যা নয়—বরং সম্ভাব্য মার্কিন হামলাকে প্রতিহত করতে এক শক্তিশালী মনস্তাত্ত্বিক বার্তা। অন্যদিকে, সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় ইরানে তৈরি হচ্ছে এক নাটকীয় দৃশ্যপট। তরুণ, ক্রীড়াবিদ, শিল্পী ও শিক্ষার্থীদের ডাকা হয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে মানবপ্রাচীর গড়ে তুলতে—যেন নিজেদের শরীর দিয়েই রক্ষা করতে চায় দেশের স্পন্দন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বার্তায় যুব সুপ্রিম কাউন্সিলের সচিব আলী রেজা রহিমি বলেন, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আমাদের ভবিষ্যৎ—এগুলো রক্ষা করা মানে আমাদের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখা। তার আহ্বানে যেন যুদ্ধের মাঝেও শোনা যায় ভালোবাসার এক নীরব সুর—দেশকে আগলে রাখার গভীর টান।
এদিকে Donald Trump হোয়াইট হাউসে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানো হবে। সেই সময়সীমা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার রাত ৮টা—যা বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৬টা।
যুদ্ধের সম্ভাব্য ছায়া যখন ঘনিয়ে আসছে, তখন ইরানের আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে এক অদ্ভুত আবেগ—ভয়, প্রতিরোধ আর ভালোবাসার মিশ্রণ। যেন প্রতিটি হৃদয় বলছে, দেশ যদি ডাকে—জীবনও তখন প্রেমের মতোই উৎসর্গযোগ্য।
