ফুলবাড়ীর বাসুদেবপুর সূর্যপাড়ায় বড়দিন উপলক্ষে বাড়ির দেয়ালে আলপনা আঁকায় ব্যস্ত নারী -ছবি: সংগৃহীত
বড়দিন উদযাপন উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সেজেছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার সাঁওতাপল্লি। উপজেলার সূর্যপাড়া, পারইল, বাসুদেবপুর, নথন, সিরামপুরের বাসিন্দারা নানা রকমের ফুল, বেলুন, নকশা করা কাগজ, জরি ও রং দিয়ে সাজিয়েছেন গির্জা ও বাড়িঘর।
জানা গেছে, উপজেলায় সাঁওতাল অধ্যুষিতপাড়া রয়েছে ৭২টি। সেখানকার ৬৩টি গির্জায় জাঁকজমকভাবে বড়দিন উদযাপনে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এ উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সাজছে সব গির্জা। এলাকাবাসীর বিশ্বাস, যিশুর জন্ম হয়েছিল গোয়ালঘরে বা গোশালায়। সেই স্মৃতিকে স্মরণ করে বড়দিন উপলক্ষে গির্জাগুলোতে তৈরি করা হয়েছে প্রতীকী গোয়ালঘর।
মঙ্গলবার সকালে আলাদীপুর ইউনিয়নের সূর্যপাড়া ও পার্নইল, সিরামপুর সাঁওতালপল্লি ঘুরে দেখা যায়, রং-তুলির আচরে নারীরা বাড়ি সাজাচ্ছেন। কয়লা গুঁড়ো, বাজার থেকে কিনে আনা রং আর চুন দিয়ে মাটির ঘরের দেয়ালে ফুল লতাপাতার আলপনা আঁকা হচ্ছে। শিশু, বৃদ্ধ থেকে সবার জন্য কেনা হয়েছে নতুন পোশাক। উৎসবমুখর সময় পার করছেন সবাই।
কথা হয় সূর্যপাড়া গ্রামের লুচিয়া কিসকুর সঙ্গে। আলপনা আঁকতে আঁকতে তিনি বলছিলেন, ‘সরই হেতু ওড়া সাজাও। সিকাতে রংইং ক্রিয়া পাইসা বানু তিয়া (বড়দিন উপলক্ষে বাড়ি সাজাচ্ছি। চুন দিয়ে এভাবে রং বা আলপনা আঁকছি। টাকা নেই কী আর করা)। একই কথা বলেন ইতি কিনা মার্ডি ও নামতি মার্ডি। তারা বলেন, ‘আমাদের উৎসবের এই দিনটিকে ঘিরে থাকে নানা ধরনের স্বপ্ন। আমরা এ দিনের জন্য বছরজুড়ে অপেক্ষা করি।
বড়দিনকে সামনে রেখে কাজিহাল ইউনিয়নের পারইল কোদবীর মিশনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আলবিনা বাস্কে বলেন, ‘আনে রেংগেই হর বানু তালে টাকা পাইসা আনাতে যাহা লেকাতে পরবও কানা লে (আমরা গরিব মানুষ টাকাপয়সা কম থাকলেও উৎসব পালন করি)।
সাঁওতাল নেতা কমল কিসকু বলেন, ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন জাঁকজমকভাবে উদযাপনে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। উপজেলার ব্যাপটিস্ট, ক্যাথলিক, লাথারন, এফসিসি ও চার্চ অব গর্ডের ৬৩টি চার্চে প্রার্থনা করা হবে।
কাজিহাল ইউনিয়নের পারইল কোদবীর ক্যাথলিক চার্চের ফাদার রবেন হাসদা বলেন, যিশুখ্রিষ্ট ২৫ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রচার ও মানবজাতিকে ন্যায়ের পথে পরিচালনা ছিল তাঁর কাজ। দিবসটি উপলক্ষে ২৪ ডিসেম্বর রাত থেকে প্রার্থনা শুরু করা হবে। পরদিন ২৫ ডিসেম্বর সারা দিন বিশেষ প্রার্থনাসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটির উদযাপন শেষ হবে। এই দিনে মানুষের শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধ কামনা করে প্রার্থনা করে যিশুকে স্মরণ করেন তারা।
ইউএনও আহমেদ হাছান বলেন, ৬৩টি গির্জায় বড়দিন উদযাপন করা হবে। এ উপলক্ষে ৩১ টন ৫০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সুশৃঙ্খলভাবে দিবস উদযাপনের দিকে খেয়াল রাখা হবে।
