বৃহস্পতিবার, ১২ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিধি ভেঙে সিডিএতে এসএসসি পাশ ‘ইমারত পরিদর্শক’! নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি পরীক্ষার্থীদের

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
মার্চ ১২, ২০২৬ ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-এর সাম্প্রতিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত এবং সংস্থার নিজস্ব চাকরি প্রবিধানমালা উপেক্ষা করে উচ্চমাধ্যমিকের পরিবর্তে মাধ্যমিক (এসএসসি) উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ‘ইমারত পরিদর্শক’ পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে সিডিএ’র অভ্যন্তরে এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিয়োগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা উপেক্ষা করে কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ জন এসএসসি পাশ প্রার্থীকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অনেকেই এটিকে প্রশাসনিক অনিয়মের চেয়েও বড় কিছু—ক্ষমতার অপব্যবহার ও সম্ভাব্য ঘুষ বাণিজ্যের ইঙ্গিত—বলে মনে করছেন। তবে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম দাবি করেছেন, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে এক শর্ত, নিয়োগে আরেক চিত্র
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের ২১ অক্টোবর সিডিএ একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তির ১৭ নম্বর ক্রমিকে ১৮ জন ‘ইমারত পরিদর্শক’ নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়।
সেখানে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে স্পষ্টভাবে বলা ছিল—
উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সার্ভে ফাইনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

তবে সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞতা থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর। অন্যদিকে সিডিএ’র চাকরি প্রবিধানমালায় এই পদে নিয়োগের জন্য এইচএসসি বা সমমানের সনদের পাশাপাশি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা থাকার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, এই শর্ত ভেঙে এবার প্রথমবারের মতো এসএসসি পাশ সার্ভেয়ারদেরই ইমারত পরিদর্শক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
“এইচএসসি না থাকলে পরীক্ষায় বসারই সুযোগ নেই”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিডিএ’র একাধিক কর্মকর্তা জানান, অতীতে এই পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি ও চাকরি প্রবিধানমালার শর্ত কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।

তাদের ভাষ্য, এ পর্যন্ত যারা ইমারত পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত আছেন, সবাই এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং সার্ভে ফাইনাল পাশ। এইচএসসি পাশ না হলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণেরই সুযোগ থাকার কথা নয়। কিন্তু এবার নিয়ম ভেঙে এসএসসি পাশ করা কয়েকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, এটি যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে বড় ধরনের অনিয়ম ছাড়া এমন ঘটনা ঘটার সুযোগ নেই। বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আগেই অনিয়মের আশঙ্কা করেছিলেন পরীক্ষার্থীরা। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের আশঙ্কা করে আগেই লিখিতভাবে অভিযোগ করেছিলেন কয়েকজন পরীক্ষার্থী।
গত ২৫ জানুয়ারি একযোগে ১৪ জন পরীক্ষার্থী সিডিএ চেয়ারম্যান ও সচিবের কাছে লিখিত আবেদন করেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়— নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত শিক্ষাগত যোগ্যতার বাইরে ৬ মাস বা ১ বছরের ট্রেড কোর্সধারী এবং বিভিন্ন টেকনোলজিতে ডিপ্লোমাধারী প্রার্থীরাও আবেদন করেছেন। শুধু আবেদনই নয়, তাদের নামে প্রবেশপত্র ইস্যু করা হয়েছে এবং তারা লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন।
পরবর্তীতে দেখা যায়, এসব অযোগ্য প্রার্থীদের মধ্য থেকেই কয়েকজনকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দেখিয়ে মৌখিক পরীক্ষার জন্যও নির্বাচিত করা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছিল, এভাবে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত লঙ্ঘন করে নিয়োগ দেওয়া হলে তা আইন পরিপন্থী হবে এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরিপন্থী হবে।
তবে অভিযোগ পাওয়ার পরও সিডিএ কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

“এসএসসি দিয়েই আবেদন করেছি”

এদিকে সদ্য নিয়োগ পাওয়া ইমারত পরিদর্শক সাইদুল হাসান নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি এসএসসি সনদ জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি এসএসসির সনদ জমা দিয়েছি। তবে আমার একটি ডিপ্লোমা কোর্স আছে, সেটিকে এইচএসসি বা সমমান হিসেবে ধরা হয়।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনের ভাষ্য অনুযায়ী এইচএসসি বা সমমান উত্তীর্ণ হওয়ার পর ডিপ্লোমা কোর্স থাকতে পারে। কিন্তু এসএসসি পাশের সঙ্গে সরাসরি ডিপ্লোমা কোর্সকে এইচএসসি সমমান হিসেবে দেখানোর সুযোগ নেই।

সাবেক সচিবের মন্তব্য-

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিডিএ’র সাবেক সচিব রবীন্দ্র চাকমা বলেন, এমন তো হওয়ার কথা নয়। যদি হয়ে থাকে তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কর্তৃপক্ষের অবস্থান- সিডিএ’র অর্থ ও প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা সদস্য (অতিরিক্ত সচিব) নুরুল্লা নুরী বলেন, যদি কোনো প্রার্থীর চাহিদা অনুযায়ী যোগ্যতা না থাকে তাহলে তার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ারই সুযোগ নেই। তারপরও যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। প্রয়োজনে যাচাই করে তাদের নিয়োগ বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম দাবি করেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া শতভাগ স্বচ্ছ ছিল।

তার ভাষ্য, ৯ম গ্রেড ও তার উপরের পদে ঢাকায় লিখিত পরীক্ষা হয়েছে। ৮০ নম্বরের লিখিত এবং ২০ নম্বরের ভাইবা হয়েছে। ভাইবা নিয়েছে মন্ত্রণালয় ও ডিসি অফিসের প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত কমিটি। নিচের গ্রেডের পরীক্ষা চট্টগ্রামের সরকারি স্কুলে হয়েছে এবং খাতা মূল্যায়ন করেছেন শিক্ষকরা। বাংলাদেশে এই ধরনের নিরপেক্ষ নিয়োগ একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।

তবে ইমারত পরিদর্শক পদে এইচএসসি শর্ত থাকার পরও এসএসসি পাশ প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কি না—এ প্রশ্নের সরাসরি কোনো জবাব দেননি।

তদন্তের দাবি- অভিযোগকারীরা বলছেন, যদি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত উপেক্ষা করে কম যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে, তবে এটি শুধু প্রশাসনিক ত্রুটি নয়; বরং স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থার প্রতি আস্থার বড় ধরনের ধাক্কা।
তাদের দাবি, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।