ফাইল ছবি
জাতীয় সংসদের গম্ভীর কক্ষে হঠাৎই নেমে এলো এক অদ্ভুত নীরবতা—যেন শব্দের সঙ্গে সংসদের এক অভিমানী বিচ্ছেদ। রোববার বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কণ্ঠও হারিয়ে গেল প্রযুক্তির অদৃশ্য খেলায়। সাউন্ড সিস্টেমের বিভ্রাটে থমকে দাঁড়াল অধিবেশন, ঘোষণা এলো—৪০ মিনিটের মুলতবি।
শব্দহীন কণ্ঠের নাটকীয় বিরতি- স্পিকার নিজেই জানালেন, আবারও মাইক কাজ করছে না।
একটি সাধারণ যান্ত্রিক ত্রুটি যেন মুহূর্তেই বদলে দিল পুরো পরিবেশ— যেখানে কণ্ঠ ছিল প্রধান অস্ত্র, সেখানে নেমে এলো নিস্তব্ধতার ছায়া।
৪০ মিনিটের এই বিরতিও যেন ভাগ হয়ে গেল দুই অনুভূতিতে— প্রথম ২০ মিনিট নামাজের জন্য, পরবর্তী ২০ মিনিট মাইকের জন্য। যেন আধ্যাত্মিকতা আর প্রযুক্তির মাঝে দাঁড়িয়ে সংসদ খুঁজছিল তার হারানো সুর।
পুরনো ক্ষত, নতুন বিস্ময়-এ যেন নতুন কোনো গল্প নয়—গত ১২ মার্চ, সংসদের উদ্বোধনী দিনেও একইভাবে সাউন্ড সিস্টেমে বিপত্তি ঘটে। সেদিনও থেমে গিয়েছিল কার্যক্রম, পরে বিকল্প ব্যবস্থায় চললেও রয়ে গেছে অদৃশ্য ত্রুটির ছাপ।
নাশকতা নাকি নিছক বিভ্রাট? এই পুনরাবৃত্ত সমস্যার পেছনে কি শুধু প্রযুক্তিগত দুর্বলতা, নাকি লুকিয়ে আছে আরও গভীর কোনো রহস্য? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই গঠন করা হয়েছে একটি তদন্ত কমিটি, যার নেতৃত্বে রয়েছেন সংসদের সার্জেন্ট এ্যাট আর্মস।
শেষ দৃশ্য: শব্দের অপেক্ষায় সংসদ-সংসদ কক্ষ—যেখানে প্রতিটি শব্দই গুরুত্বপূর্ণ, সেই জায়গাতেই যখন কণ্ঠ হারিয়ে যায়, তখন নীরবতাও যেন হয়ে ওঠে এক শক্তিশালী বার্তা। ৪০ মিনিটের এই বিরতি শুধু সময়ের হিসাব নয়— এ যেন প্রশ্নের, সংশয়ের, আর অপেক্ষার এক অদৃশ্য অধ্যায়।
এখন সবার দৃষ্টি একটাই—সংসদের কণ্ঠ কি ফিরবে আগের মতো, নাকি এই নীরবতার আড়ালে লুকিয়ে আছে আরও বড় কোনো গল্প।
