শুনানির জন্য ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে আদালতে তোলা হয়। ছবি: ফোকাস বাংলা
রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)-এর সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন।
রিমান্ড আবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার, অজ্ঞাতনামা জড়িতদের পরিচয় শনাক্ত, ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত জরুরি।
আবেদনে আরও বলা হয়, শেখ মামুন খালেদের নির্দেশে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের ৫০০ থেকে ৭০০ জন সশস্ত্র সদস্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে অংশ নেয়। দেশীয় অস্ত্র ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তারা বিভিন্ন দিক থেকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে আন্দোলনকারী দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে আসামির সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন জানায়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে বুধবার (২৫ মার্চ) মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় বিভিন্ন দিক থেকে গুলি ছোড়া হলে দেলোয়ার হোসেন গুরুতর আহত হন।
প্রথমে তাকে জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউটে এবং পরে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার প্রায় এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৬ জুলাই নিহত দেলোয়ারের স্ত্রী মোছা. লিজা বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
