শুক্রবার, ২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মেয়েকে বাঁচাতে পল্টুনে সাঁতরে উঠলেন মা, ছেলেকে ফেরাতে আর নামতে দিল না কেউ—পদ্মার বুকে ভেসে রইল শেষ আহাজারি

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
মার্চ ২৬, ২০২৬ ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বারবার ছেলের লাশের কাছে ছুটে যাচ্ছিলেন শাকিলা। ছবি: সংগৃহীত

ঈদের আনন্দভ্রমণ মুহূর্তেই পরিণত হলো মৃত্যুযাত্রায়—মায়ের বুকফাটা কান্নায় স্তব্ধ আগমাড়াই গ্রাম

ঈদের ছুটির হাসি-আনন্দ যেন হঠাৎ করেই ডুবে গেল পদ্মার কালো জলে। স্বপ্ন ছিল ঢাকায় ঘুরতে যাওয়ার, কিন্তু সেই স্বপ্নই হয়ে উঠল মৃত্যুর নির্মম ফাঁদ।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ভয়াবহ বাসডুবির সেই মুহূর্তে, এক অসহায় মায়ের বেঁচে থাকার সংগ্রাম আজও শিহরণ জাগায়। শাকিলা বেগম—এক হাতে ছোট্ট মেয়ে সাবিহাকে আঁকড়ে, আরেক হাতে জীবনের শেষ শক্তিটুকু দিয়ে সাঁতরে উঠে এলেন পল্টুনের কাছে। নিঃশ্বাস নিতে না নিতেই কাঁপা কণ্ঠে বললেন— ভাই, মেয়েটাকে একটু ধরেন… আমি আমার ছেলেটাকে নিয়ে আসি। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় সেই অনুরোধ পূরণ হওয়ার আগেই বাস্তবতার নির্মমতা তাকে থামিয়ে দিল। পল্টুনে থাকা লোকজন তাকে আর নামতে দেয়নি—কারণ তারা বুঝেছিল, এই মায়ের আরেকবার নামা মানেই নিশ্চিত মৃত্যু।

মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে শাকিলার পৃথিবী। পল্টুনে উঠেই অজ্ঞান হয়ে যান তিনি—আর পদ্মার গভীরে হারিয়ে যায় তার বুকের ধন, ৮ বছরের সাবিত। এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে শুধু সাবিত নয়, তার চাচাতো বোন ১০ বছরের সোহানাও। অথচ কিছুক্ষণ আগেও তারা ছিল ঈদের আনন্দে ভরপুর এক যাত্রার যাত্রী।

মেয়ের শোকে বারবার মূর্ছা যান নিশি। ছবি: সংগৃহীত

শোকের গ্রাম, স্তব্ধ এক পরিবার। আগমাড়াই গ্রামে এখন শুধু কান্নার শব্দ। পাশাপাশি শায়িত দুটি নিষ্পাপ শিশুর মরদেহ—চারপাশে মানুষের ঢল, আর বুকফাটা আহাজারি।
বাবা শরিফুল ইসলাম সন্তানের নিথর দেহের পাশে বসে নির্বাক কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
মা শাকিলা—শোকে পাথর, মাঝে মাঝে শুধু ছেলের নাম ধরে বিলাপ করছেন।
অন্যদিকে, একমাত্র সন্তান হারানো নিশি আক্তারের চোখে আর পানি নেই—কান্না যেন শুকিয়ে গেছে। কখনো নিঃশব্দে তাকিয়ে থাকেন, কখনো হঠাৎ মূর্ছা যান।

আনন্দ থেকে শোক—এক নিমিষে সব শেষ। ঈদের ছুটিতে পরিবারের মিলন,হাসি,পরিকল্পনা—সবকিছুই যেন মুহূর্তে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল। যে যাত্রা ছিল আনন্দের, সেটাই হয়ে উঠল জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ স্মৃতি।

স্বজনদের ভাষায়— এ দৃশ্য দেখা যায় না… এক মুহূর্তে একটা সুখী পরিবার শেষ হয়ে গেল।
এই ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়—এ যেন এক মায়ের অসমাপ্ত চেষ্টা, এক শিশুর না ফেরা, আর এক পরিবারের চিরস্থায়ী শোকের।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।