যমুনা ওয়েলের লেবার ইউনিয়ন ইউনিয়নের সভাপতি আবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ এয়াকুব দীর্ঘ দিন ধরে জেল হাজতে । ইতিমধ্যে দুই জনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে । এদের অনুপস্থিতিতে বর্তমানে যমুনা অয়েলের একক রাজত্ব তাদেরই অত্যান্ত বিশ্বস্ত অনুসারী অপর সিবিএ নেতা মো: নাসির উদ্দিনের৷ বর্তমানে তিনি সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকও বটে। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামিলীগ নেতা বদিউল আলমের ভাতিজা নাসির উদ্দিন নিজেও যুবলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। আওয়ামী ঘরনার রাজনৈতিক নেতা বর্তমানে ভোল্ট পাল্টিয়ে হয়ে গেছে বিএনপি ঘরনার । পুরো যমুনা অয়েলে ইচ্ছেমতো চলছে তার চাঁদাবাজি, বদলী ও পদোন্নতি বানিজ্য। বলা চলে তার ইশারায় চলছে যমুনা অয়েল কোম্পানি। জেল হাজতে থাকা দুই সিবিএ নেতাকে জামিনে বের করতে কোটি টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে এই নাসির উদ্দিন৷ এমনকি দুই সিবিএ নেতার সাময়এ বরখাস্ত প্রত্যাহারের জন্য যমুনা অয়েল কর্তৃপক্ষকে চাপ প্রয়োগেরও অভিযোগ উঠেছে এই সিবিএ নেতার বিরুদ্ধে।
এদিকে ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রতিষ্ঠানটির ডিজিএম ফ্যাইন্যান্স বরাবর সিবিএ নেতা নাসির উদ্দিনের দেয়া একটা চিঠি আমাদের কাছে হস্তগত হয়েছে৷ চিঠিতে বিষয় হিসাবে বলা হয়েছে চাঁদা কর্তন। এতে আরও বলা হয়েছে ( সিবিএ) এর কার্যকরী পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এবং শ্রমিক কর্মচারীদের মৌখিক সম্পত্তির ভিত্তিতে ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের শ্রমিক কল্যান তহবিলে জমাকৃত অর্থ যাহা সুবিধাভোগীদের মাঝে বন্টন করা হবে। তা হইতে সকল শ্রমিক – কর্মচারী ও সিকিউরিটি সহ প্রতিজনের হিসাব হতে পাঁচ হাজার টাকা করে কর্তন করা অনুরোধ জানান হলো। এধরণের চিঠি দেখে হতবাক যমুনা অয়েলের সাধারণ কর্মচারীরা৷ ইচ্ছে করলেই কর্মচারীরা এর প্রতিবাদ করারও সাহস রাখেনি৷ প্রতিবাদ করতে গেলেই উল্টো তাদেরকে হেনেস্তার শিকার হতে হয়৷ বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য ডিজিএম ফাইন্যান্সকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি৷ এদিকে যমুনা অয়েলের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন এধরণের চিঠি দেয়ার এখতিয়ার সিবিএ নেতা নাসির উদ্দিন রাখেনা, তারা দাবি করেন এটা প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির শামিল। তারা এও অভিযোগ করে যমুনা অয়েল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় চলছে এরকম প্রকাশ্য চাঁদাবাজির ঘটনা৷ অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির জিএম এইচ আর মো: মাসুদুল ইসলাম প্রকাশ্যে সিবিএ নেতা নাসিরকে সহযোগিতা করেছে। তার সহয়তায় এই সিবিএ নেতা প্রতিষ্ঠানটিতে দানবের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে ।
এদিকে চাঁদাবাজি ছাড়াও নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ। শ্রমিক কর্মচারী বিশেষে ইনক্রিমেন্ট, গ্রেডিং, পদোন্নতি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও টাকার বিনিময়ে তিনি বদলী, পদোন্নতি বিশেষ ইনক্রিমেন্ট করে থাকেন । অপু দে নামক এক অফিস সহকারী, নারী নির্যাতন মামলায় ছয় মাস জেল হাজতে ছিলেন, যেখানে তার সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার কথা সেখানে নাসিরের ক্ষমতার বদৌলতে বিশেষ ইনক্রিমেন্ট দেয়া হয়৷
