ছবি: বিবিসি
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা বর্তমানে ওমানে বৈঠকে বসছেন। তবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে এ ধরনের আলোচনা এই প্রথম নয়।
এর আগে ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে ইরানের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি সই হয়। প্রায় দুই বছর ধরে চলা আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ইরান এই চুক্তিতে পৌঁছায়। চুক্তিটি পরিচিত ছিল যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) নামে।
এই চুক্তির আওতায় ইরান তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমে কঠোর সীমাবদ্ধতা মেনে নিতে সম্মত হয়। চুক্তির লক্ষ্য ছিল- ইরানের পরমাণু কর্মসূচি যেন কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
তবে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালনকালে এই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। সে সময় ট্রাম্প এই চুক্তিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ও একতরফা চুক্তিগুলোর একটি’ বলে আখ্যা দেন। তার দাবি ছিল, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরান খুব বেশি সুবিধা পেলেও যুক্তরাষ্ট্র তেমন কিছু পায়নি।
চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর পুনরায় কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর জেরে ইরানও ধীরে ধীরে চুক্তির বিভিন্ন শর্ত মানা থেকে সরে আসতে শুরু করে।
বর্তমানে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হওয়ায় জেসিপিওএ আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে ফিরে এসেছে। সূত্র: আল-জাজিরা
