ফাইল ছবি
রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় চোরের হাতে প্রাণ গেছে আনোয়ার উল্লাহ (৬৬) নামের এক জামায়াত নেতার। সোমবার গভীর রাতে চোর তাঁর ফ্ল্যাটে ঢুকে হাত-পা বেঁধে মুখে কাপড় গুঁজে দেয়। পরে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর পশ্চিম রাজাবাজার সাংগঠনিক ওয়ার্ডের সহসভাপতি ছিলেন।
শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যম কে বলেন, পশ্চিম রাজাবাজারের ৫৮/১ নম্বর বাসার দোতলায় থাকতেন আনোয়ার উল্লাহ। রাতে গ্রিল কেটে ফ্ল্যাটে চোর ঢুকে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে রাখে। চোর চলে যাওয়ার পর আনোয়ার উল্লাহকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পান্থপথের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক জানান, আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের মামাতো ভাই মাকছুদুর রহমান জানান, আনোয়ার পেশায় শিক্ষক ছিলেন। অবসরের পর তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবে কাজ শুরু করেন। বাসার অদূরে স্কয়ার হাসপাতালের পেছনের গলিতে তাঁর হোমিওপ্যাথির চেম্বার রয়েছে। তিনি স্ত্রী নাছিমা আক্তারকে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন। তাঁর এক ছেলে পর্তুগাল ও এক মেয়ে ফিনল্যান্ড থাকেন। আরেক মেয়ে ও জামাতা একই ভবনের তৃতীয় তলায় থাকেন। সোমবার রাতে দুই চোর গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে আনোয়ার ও তাঁর স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে মারধর করলে দুজনই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্ত্রীর জ্ঞান ফিরলে তিনি ওপরের তলায় থাকা জামাতাকে বিষয়টি জানান। পরে মেয়ে ও জামাতা আনোয়ারকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সোমবার রাত ২টা ৩৮ মিনিটে দুই চোর বাসার বারান্দার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢোকে। তাদের মুখে মাস্ক ও মাঙ্কি টুপি ছিল। তারা আনোয়ার ও তাঁর স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে ফেলে। পাশাপাশি তাদের মুখে কাপড় গুঁজে মুখও বেঁধে ফেলে। এরপর আনোয়ারকে মারধর করে ঘরে থাকা পাঁচ লাখ টাকা ও আট ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে ৫টা ৮ মিনিটে পালিয়ে যায়।
পুলিশ বলছে, নিহতের শরীরে মারধরের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। হাত-মুখ বেঁধে রাখায় শ্বাসরোধে অথবা ভয়ে হার্ট অ্যাটাক করে আনোয়ার উল্লাহর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে স্বজনরা বলছেন, এটি পরিকল্পিত হত্যা। নিহতের মেয়ে রেহানা সাংবাদিকদের বলেন, আমার বাবা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেন। এটি পরিকল্পিত হত্যা।
নিহতের ভাতিজা পরিচয়ে আরেকজন বলেন, ‘হত্যার সময় তারা চাচাকে বলেছে, তোকে এখন মেরে ফেলব, কালেমা পড়। তখন ফুফা বলেন, আমি কালেমা জানি, আমি নিজেই পড়তে পারব। এরপর তাঁকে সামান্য পানি খেতে দেয়। মৃত্যু নিশ্চিত করেই তারা বের হয়ে যায়।’ পুলিশ জানায়, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
