সোমবার, ৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাতের আঁধারে প্রেম নয়, ছিল গাঁজার কারবার—পুলিশের চৌকস অভিযানে ধরা পড়লো চারজন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
এপ্রিল ৫, ২০২৬ ৬:১১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পটুয়াখালীর নিস্তব্ধ ভোররাত—চারপাশে তখন ঘুম আর নীরবতার আবরণ। কিন্তু সেই নীরবতার ভেতরেই যেন লুকিয়ে ছিল এক অদৃশ্য উত্তেজনা, এক গোপন লেনদেনের গল্প। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই বজ্রপাতের মতো নেমে এলো পুলিশের চৌকস অভিযান।

মহিপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১২ কেজি গাঁজাসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (৪ এপ্রিল) ভোররাতে উপজেলার ৬নং মহিপুর ইউনিয়নের পুরান মহিপুরের হাজীপুর এলাকায় এই নাটকীয় অভিযান পরিচালিত হয়।

রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ৪ এপ্রিল ভোরে মহিপুর থানার একটি দক্ষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে। রাত আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটে রাজা পেট্রোল পাম্প এলাকায় অবস্থানকালে পুলিশ জানতে পারে—কয়েকজন ব্যক্তি বাস থেকে নেমে গাঁজা বিক্রির উদ্দেশ্যে হাজীপুর এলাকায় অবস্থান করছে।

সংবাদটি ছিল যেন ঝড়ের আগাম বার্তা। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সুপারকে অবহিত করে অভিযান দল দ্রুত ছুটে যায় ঘটনাস্থলের দিকে। মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে, রাত ৩টা ২০ মিনিটে সেখানে পৌঁছে যায় তারা। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়েই চারজনের চোখে-মুখে ভেসে ওঠে আতঙ্কের ছাপ। পালানোর চেষ্টা—কিন্তু ভাগ্য যেন সেদিন তাদের পক্ষে ছিল না। রুদ্ধশ্বাস ধাওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকেই তাদের আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা ব্যক্তিরা হলেন—মোঃ রফিক হাওলাদার (৪২), মোঃ কুদ্দুস হাওলাদার (৩৫), মোঃ শাহ আলম (২০) এবং মোসাঃ শারমিন বেগম (১৯)। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তাদের তল্লাশি চালানো হলে যেন একে একে বেরিয়ে আসে গোপন অন্ধকারের গল্প— রফিকের ট্রলি ব্যাগে ৫ কেজি, কুদ্দুসের ব্যাগে ২.৫ কেজি, শাহ আলমের ব্যাগে ২.৫ কেজি এবং শারমিনের ব্যাগে ২ কেজি—মোট ১২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এ সময় জব্দ করা হয় একটি ট্রলি, তিনটি ব্যাগ এবং চারটি বাটন মোবাইল ফোন—যেগুলো দিয়ে চলতো এই গোপন বাণিজ্যের যোগাযোগ।

পুলিশ জানায়, তাদের বিরুদ্ধে মহিপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই অন্ধকার জগতের সঙ্গে জড়িত ছিল, এবং কারও কারও বিরুদ্ধে আগেও রয়েছে মাদকের মামলা।
পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, এই ঘটনার পেছনে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনের জাল আরও বিস্তৃত হবে—অপরাধীরা যতই আড়ালে থাকুক, শেষ পর্যন্ত ধরা পড়বেই।

রাতের সেই নিস্তব্ধতা ভেঙে দিয়ে যেন আবারও প্রমাণ হলো— অন্ধকার যত গভীরই হোক, আইনের আলো একদিন ঠিকই পৌঁছে যায় সেখানে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।