রবিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লক্ষ্মীপুরে জামায়াত–বিএনপি সংঘর্ষ: পাল্টাপাল্টি মামলায় আসামি ৩৮৭ জন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
জানুয়ারি ১৮, ২০২৬ ৪:৫০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

লক্ষ্মীপুরে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা হয়েছে। দুই মামলায় মোট ৩৮৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াতের মামলায় ১৭০ জন, বিএনপির মামলায় ২১৭ জন আসামি রয়েছেন।

জামায়াতের যুব বিভাগের নেতা হেজবুল্লাহ সোহেল এবং বিএনপির কর্মী কামাল হোসেন বাদী হয়ে পৃথকভাবে চন্দ্রগঞ্জ থানায় এসব মামলা দায়ের করেন। আজ রোববার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. রেজাউল হক। তিনি জানান, দুই মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

পুলিশ জানায়, হামলার অভিযোগ এনে জামায়াতের যুব বিভাগের চরশাহী ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি হেজবুল্লাহ সোহেল ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৬০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। অপরদিকে, একই ঘটনায় বিএনপির কর্মী কামাল হোসেন ১৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. মোহাম্মদ রেজাউল করিমের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার হ্যাপী চরশাহী ইউনিয়নের বটতলা এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণা চালান। এ সময় বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সমর্থকরা বিষয়টি জানতে চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পুনরায় দুই পক্ষের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে জামায়াতের আবদুর রহমান, মাওলানা হেজবুল্লাহ সোহেল, সাকিব হোসেন, এমরান হোসেন, শাহাদাত হোসেন খোকন, বিএনপির যুবদল নেতা বোরহান মিয়াজি ও দুলাল হোসেনসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে গতকাল শনিবার দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান লক্ষ্মীপুরের চারটি আসনের প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনি আচরণবিধি বিষয়ে অবহিতকরণ সভা করেন। সভায় চরশাহীর সংঘর্ষের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। এ সময় জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান ও পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক উভয় পক্ষকে আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মহিলা সভার নামে জামায়াতের কর্মীরা ভোটারদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছিলেন। এতে বাধা দিলে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘আমাদের নারী কর্মীদের কর্মসূচিতে বিএনপির লোকজন বাধা দেয়। বিষয়টি মীমাংসা হয়েছিল। পরে তারা আবার আমাদের পুরুষ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।

অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘জামায়াতের লোকজন ভোটারদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছিল। সেখান থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। উভয় পক্ষের মধ্যেই অপরাধপ্রবণতা দেখা গেছে। আমি বিএনপির আহত নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জামায়াতের আহতদেরও হাসপাতালে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।