রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে অপহৃত তিন বছরের শিশু হিসান রহমানকে ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শিশুটিকে উদ্ধারে জারি করা হয়েছে ‘মুন (মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন) অ্যালার্ট’। এ ঘটনায় মুগদা থানায় অপহরণ মামলা হয়েছে। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে পরিবারের উৎকণ্ঠা ও শঙ্কা।
পুলিশ সূত্র জানায়, বুধবার দুপুরে মায়ের সামান্য অসতর্কতার সুযোগে হিসানকে নিয়ে পালিয়ে যান এক ইজিবাইক চালক। ঘটনার পর থেকেই পুলিশ সম্ভাব্য সব জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব বৃহস্পতিবার জানান, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথমে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় অপহরণ মামলা রুজু করা হয়। “শিশুটিকে উদ্ধারে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। ঢাকার সব থানাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং সম্ভাব্য সব স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে,” বলেন তিনি।
পুলিশ জানায়, আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে—শিশুটিকে ইজিবাইকে বসিয়ে রেখে তার মা পাশের একটি দোকানে যান। ঠিক সেই মুহূর্তে ইজিবাইক চালক দ্রুত গাড়ি চালিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তবে ফুটেজে চালকের চেহারা স্পষ্ট না হওয়ায় শনাক্তে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
নিখোঁজ শিশুটির মা সুমাইয়া আক্তার জানান, তিনি মুগদার দক্ষিণগাঁও এলাকার ছয় নম্বর সড়কের একটি বাসায় স্বামী ও সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। তার স্বামী হারুন রহমান প্রবাসে কর্মরত। বুধবার সকালে তিনি সন্তান হিসানকে সঙ্গে নিয়ে মুগদা সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি ক্লিনিক্যাল টেস্টের রিপোর্ট আনতে যান।
দুপুর সোয়া ১টার দিকে হাসপাতালের সামনে থেকে বাসায় ফেরার জন্য একটি ইজিবাইকে ওঠেন তারা। পথে তীব্র তৃষ্ণা লাগলে তিনি চালককে একটি দোকানের সামনে থামতে বলেন। হিসানকে ইজিবাইকে বসিয়েই দোকানে গিয়ে এক বোতল পানি কেনেন তিনি। ফিরে এসে দেখেন—ইজিবাইক নেই, নেই তার তিন বছরের শিশুটিও।
শিশুটির মামা আজিজুর রহমান বলেন, “আমরা আশপাশের সব এলাকায় খুঁজেছি। কিন্তু চালক এত দ্রুত পালিয়েছে যে কিছু বোঝার সুযোগই পাইনি। এত অল্প সময়ের মধ্যে ঘটনা ঘটেছে যে হিসানের মা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ। সন্তানকে হারিয়ে তিনি এখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন, প্রায় পাগলপ্রায়।”
ঘটনার পরপরই জিডি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুন অ্যালার্ট জারি করা হয়। শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট কাজ করছে। মুন অ্যালার্টের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে হিসানের ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এছাড়া সাধারণ মানুষের সহায়তায় শিশুটিকে দ্রুত শনাক্ত করতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে, মেট্রোরেল এলাকা ও বিলবোর্ডে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হচ্ছে।
মুন অ্যালার্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুটির অবস্থান বা অপহরণসংক্রান্ত কোনো তথ্য জানা থাকলে ১৩২১৯ (টোল-ফ্রি) নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
