আমদানিকারক ও বাজারজাতকারীদের চাপে শেষ পর্যন্ত ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এ দফায় প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৬ এবং খোলা সয়াবিনের দাম ৭ টাকা বাড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বাড়ানো হয়েছে পামওয়েলের দাম। এ ধরনের তেলের দাম বাড়ল লিটারে ১৬ টাকা।
আজ রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেও তেলের নতুন নির্ধারিত হয়। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে এভাবে দাম বাড়ানো ভোক্তার ওপর বাড়তি চাপ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
বৈঠক শেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তেলের নতুন দরের তথ্য জানিয়েছে ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল ওয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম ১৯৫ আর খোলা সয়াবিনের দাম ১৭৬ টাকা করা হয়েছে। এতদিন পর্যন্ত এই দুই ধরনের তেলের সরকার অনুমোদিত দর ছিল যথাক্রমে ১৮৯ ও ১৬৯ টাকা। পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিনের নতুন দাম ধরা হয়েছে ৯৫৫ টাকা, এতদিন সরকার নির্ধারিত দাম ছিল ৯২২ টাকা। এবার সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে পামওয়েলের। এ ধরনের তেলের লিটারে ১৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬৬ টাকা, এতদিন সরকারি দর ছিল ১৫০ টাকা। যদিও এক সপ্তাহ ধরে বেশি দরেই বিক্রি হয়ে আসছে ভোজ্যতেল।
গত সপ্তাহে কোনো ঘোষণা ছাড়াই এক প্রকার নীরবে ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তখন তারা প্রতি লিটার বোতলজাত তেলের দর ৯ টাকা বাড়িয়ে ১৯৮ টাকা ও পাঁচ লিটারের বোতল ৯৬৫ টাকা নির্ধারণ করে বাজারে ছেড়েছিল। এছাড়া প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১৭৯ ও পামওয়েল ১৬৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বাজারে নতুন এ দরের তেল সরবরাহ শুরু করা হয়। এরপর গত ৩ ডিসেম্বর সমকালে ‘ঘোষণা ছাড়াই সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বাড়ল ৯ টাকা’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়ে সরকারের। বাণিজ্য উপদেষ্টা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, এভাবে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর আইনগত ভিত্তি নেই। এ ব্যাপারে সরকার পদক্ষেপ নেবে। তবে হুঁশিয়ারি দিলেও এক সপ্তাহ ধরে বাড়তি দরেই বাজারে ভোজ্যতেল বিক্রি হয়ে আসছিল। অবশেষে আজ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ল ব্যবসায়ীরা।
প্রতি বছরই রোজার আগে এভাবে কৌশলে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ান বলে অভিযোগ কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব)। সংগঠনটির সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন সমকালকে বলেন, এমনিতেই মূল্যস্ফীতির জাঁতাকলে রয়েছে ভোক্তারা। নতুন করে দর বৃদ্ধিতে কম আয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে।
