বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সচিবালয়ের সয়েল টেস্ট বন্ধ, দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিলেন শেকৃবি শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ৯:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

গবেষণা মাঠ ফেরাতে ৩ দিনের আলটিমেটাম, রিটের দাবিতে প্রশাসনকে চাপে ফেললেন আন্দোলনকারীরা। ফাইল ছবি

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) দাবি করা গবেষণা মাঠে সচিবালয় স্থাপনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চলমান মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা (সয়েল টেস্ট) বন্ধ করে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মাঠে গিয়ে পরীক্ষার সরঞ্জাম ও নমুনা সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন তারা। একই সঙ্গে গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে তিন দিনের মধ্যে জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান, সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিটসহ কার্যকর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

দাবি পূরণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের পাশাপাশি আমরণ অনশনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের আন্দোলন নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

সয়েল টেস্ট বন্ধ, ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

মঙ্গলবার সকালে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে গণজমায়েত করেন। পরে পতাকা স্ট্যান্ডের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবন প্রদক্ষিণ করে পুরোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠে যান তারা।

সেখানে অবস্থান নিয়ে চলমান সয়েল টেস্টের কাজ বন্ধ করে দেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় পরীক্ষার সরঞ্জাম ও নমুনা সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন তারা। পাশাপাশি মাঠের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের লাগানো একটি সাইনবোর্ড ভেঙে ক্যাম্পাসে এনে প্রশাসনিক ভবনের সামনে রাখা হয়।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও ব্যবহারিক শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাঠটি অন্য কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

তিন দিনের মধ্যে সিন্ডিকেট সভার দাবি

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মো. আশিক আহমদ বলেন, মাঠে সয়েল টেস্টের কাজে ব্যবহৃত নমুনা সংগ্রহের গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে এসেছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব মাঠ নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী তিন দিনের মধ্যে সিন্ডিকেট সভা ডেকে জোরালো আইনি লড়াই শুরুর ঘোষণা দিতে হবে। মাঠের ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি প্রতিষ্ঠা এবং তা পুনরুদ্ধারে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ দাবিতে আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদনও দিয়েছেন। এতে তিন দিনের মধ্যে জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান এবং সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট করার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা

গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন বলেও জানানো হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, গবেষণার কাজে ব্যবহৃত মাঠটি অন্য কাজে ব্যবহৃত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবহারিক শিক্ষা ও উচ্চতর কৃষি গবেষণা ব্যাহত হবে।

তবে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সাধারণত সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যানদের সভায় নেওয়া হয়। আপাতত পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরে সাধারণ সভায় পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

রিট নিয়ে প্রশাসন ও স্টিয়ারিং কমিটির বক্তব্যে ভিন্নতা

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আব্দুল লতিফ বলেন, বাণিজ্য মেলার মাঠ-সংক্রান্ত একটি কমিটি রয়েছে। রিট করার বিষয়ে কমিটি এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। কমিটির সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করা হবে।

তবে মাঠ পুনরুদ্ধার স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, কমিটির সিদ্ধান্ত বারবার জানানো হলেও সে অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

প্রশাসন ও স্টিয়ারিং কমিটির বক্তব্যে এই ভিন্নতা আন্দোলনকারীদের দাবির বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

দীর্ঘদিনের বিরোধ, বারবার আন্দোলন

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি করা পুরোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠটি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। ২০১৫ সালেও মাঠটিতে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রতিবাদ জানান শেকৃবির শিক্ষার্থীরা।

চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি ‘টেক ব্যাক শেকৃবি ল্যান্ড’ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মাঠটি পুনরুদ্ধারের দাবিতে সমাবেশ করেন। সর্বশেষ ১৫ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একই দাবিতে মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সেদিন মাঠটি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়।

দীর্ঘদিনের দাবি, ধারাবাহিক কর্মসূচি এবং এবার সয়েল টেস্ট বন্ধ করে দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে আসার ঘটনায় মাঠ পুনরুদ্ধারের আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে। এখন আগামী তিন দিনের মধ্যে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।