বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সনদ-নিয়োগ ও আর্থিক জালিয়াতি: অধ্যক্ষ আজিজীর বিরুদ্ধে তদন্ত ইস্যুতে কর্মসূচী!

আবদুর রহমান
ডিসেম্বর ৫, ২০২৫ ৮:২০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির আন্দোলন করে ১৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়ার প্রজ্ঞাপন আদায় করে আলোচনায় আসা এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজীর বিরুদ্ধে তদন্তের চিঠি ইস্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। গতকাল ৩০ নভেম্বর অধ্যক্ষ আজিজীর বিরুদ্ধে তদন্তের চিঠি ইস্যু করে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় মিনিস্ট্রি অডিটের নামে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের জিম্মি করে ঘুষ আদায় করার অভিযোগ তোলেন অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী।

অধ্যক্ষ আজিজী অভিযোগ করেন, ডিআইএর বিরুদ্ধে ঘুস দুর্নীতির এই অভিযোগ করার কারণেই তার বিরুদ্ধে এই তদন্তের চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। আর তদন্তের প্রতিবাদে আগামীকাল মঙ্গলবার জেলায় জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচীর ডাক দিয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট। একই সাথে আগামী বৃহস্পতিবার শিক্ষা ভবনে অবস্থিত পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচীও ঘোষণা করা হয়েছে জোটের পক্ষ থেকে।

কর্মসূচী ঘোষণা করে অধ্যক্ষ আজিজী তার ফেসবুকে লেখেন, “আমার প্রতিষ্ঠানে অডিট হয়েছে ২০১৯ সালে। স্বাভাবিকভাবে অডিট হলে আরও ৫-৭ বছর পরে অডিট হওয়ার কথা। অডিট হলে একসাথে ১০টি প্রতিষ্ঠানে অডিট হয় এবং ১/২ জন কর্মকর্তা আসেন। আর এখানে শুধু আমার প্রতিপ্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করা হয়েছে এবং ৪জন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরা আসলে আমার প্রতিবাদী কণ্ঠকে চেপে ধরে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য কায়েম করতে চায়।”

তবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর বলছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব এবং ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলাধীন কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজীজির বিরুদ্ধে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে গত ২৯ এপ্রিল ২০২৫, ১৩ আগস্ট ২০২৫ ও ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ তারিখে তিনটি অভিযোগ দাখিল করা হয়। কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসার আজীবন দাতা সদস্য ও প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আতাউর রহমান এই অভিযোগ করেন। এরই প্রেক্ষিতে এই তদন্ত এবং একই চিঠিতে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা করার কথা উল্লেখ করা হয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের সাধারণ অডিট ও পরিদর্শনের সময় যদি তিন থেকে চার বছর অতিক্রম করে তখন তদন্তের সাথে সাধারণ অডিটও করা হয়। এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া।

অধ্যক্ষ আজিজীর বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগে তদন্ত : কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসার আজীবন দাতা সদস্য ও প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আতাউর রহমান পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, দেলোয়ার হোসেন আজীজির একই সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স কোর্সের ডিগ্রি অর্জন ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ফাজিল ডিগ্রি অর্জন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন কামিল ডিগ্রি অর্জন করেন। যা বিধিবহির্ভূত। একই সময়ে সমমান একের অধিক প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি অর্জন করার কোন সুযোগ নেই।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, “দেলোয়ার হোসেন ২০০১-২০০২ শিক্ষাবর্ষে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএ অনার্স ১ম বর্ষে ভর্তি হন এবং ৪ বছর মেয়াদী অনার্স কোর্সের প্রতি বৎসরের সকল পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ২০০৪-২০০৫ শিক্ষাবর্ষে বিএ অনার্স পাশ করেন। অতঃপর তিনি ২০০৫-২০০৬ শিক্ষাবর্ষে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ২০০৯ খ্রিঃ এমএ পাশ করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ভুয়া শিক্ষার্থী হিসেবে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এবং দূর্নীতির মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার শ্রীপুর ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসা এবং চট্টগ্রাম জেলার দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসা থেকে যথাক্রমে ২০০৩ সনের ফাযিল পরীক্ষার ও ২০০৫ সনের কামিল পরীক্ষার সনদ অর্জন করেন। তার ফাযিল ও কামিলের সনদের ধরণ নিয়মিত। মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন এর একই সময়ে অর্থাৎ ২০০১-২০০৫ শিক্ষাবর্ষে সরকার স্বীকৃত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং শ্রীপুর ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসায় ও দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসায় নিয়মিত শিক্ষার্থী থাকা বৈধ নয় বিধায় তার ফাযিল ও কামিল উভয় সনদ অবৈধ। তিনি উক্ত দু’টি অবৈধ সনদ দিয়ে ১৯ বৎসর ধরে মাদ্রাসায় চাকুরী করছেন তিনি।”

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।