শুক্রবার, ২রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাড়ে চার হাজারের বেশি সদস্য নিয়ে সাইবার পুলিশ ইউনিট

স্টাফ রিপোর্টার
অক্টোবর ১, ২০২৬ ৯:৩২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ডার্ক ওয়েব-ক্রিপ্টো থেকে ম্যালওয়্যার বিশ্লেষণ—থাকছেন বিশেষজ্ঞরা; গঠিত হবে আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব। পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব ইন্টেগ্রিটিতে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

সাইবার অপরাধ দমনে ৪ হাজার ৫৯২ জন জনবল নিয়ে বিশেষায়িত ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠন করা হচ্ছে। অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী ইউনিটটির মোট জনবল ৪ হাজার ৫৯২ জন নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যমান পুলিশ বাহিনী থেকে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত সদস্যদের পদায়নের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে নতুন নিয়োগের মাধ্যমে এ জনবল কাঠামো পূর্ণাঙ্গ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পুলিশ সদর দপ্তরে সাইবার পুলিশ ইউনিটের ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় শুধু প্রচলিত পুলিশ সদস্য নয়, প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষজ্ঞদেরও ইউনিটে যুক্ত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সিস্টেম অ্যানালিস্ট, ফাইন্যান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিস্ট, ইমার্জেন্সি রেসপন্স কনসালট্যান্ট ও ডিজাস্টার রিকভারি এক্সপার্টসহ বিভিন্ন পদে দক্ষ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হবে।

চুক্তিভিত্তিক বিশেষজ্ঞ, আলাদা বেতন কাঠামো

আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি দক্ষতা নিশ্চিত করতে আউটসোর্সিং ও চুক্তিভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগের সুযোগও রাখা হয়েছে। এসব বিশেষজ্ঞের জন্য আলাদা ও আকর্ষণীয় বেতন কাঠামোর ব্যবস্থা থাকবে।

পাশাপাশি পুলিশের আইটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ সদস্যদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাইবার পুলিশ ইউনিটে পদায়ন করা হবে। ইউনিটের কার্যক্রম তদারক ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দেশে-বিদেশে উচ্চতর বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। কাজের অবদানের ভিত্তিতে কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব

সাইবার পুলিশ ইউনিটের অধীনে আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানি লন্ডারিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অপরাধ, গুজব, আর্থিক অপরাধ, মাদক ও উগ্রবাদের মতো অপরাধ মোকাবিলায় কেমিক্যাল ল্যাবের পাশাপাশি ডিজিটাল ও ফরেনসিক ল্যাবের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।

এই বাস্তবতায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সাইবার সরঞ্জামসমৃদ্ধ ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হচ্ছে।

এক ছাতার নিচে সাইবার তদন্ত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর আগে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত সাইবার তদন্তের সমন্বয়হীনতা দূর করে এখন থেকে একটি সুসংগঠিত কাঠামোর অধীনে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। একক আমব্রেলার আওতায় সাইবার পুলিশ ইউনিটের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

নতুন এই কাঠামোয় বিভাগীয় পর্যায়ে ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি এবং জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন। মাঠপর্যায়ে সাইবারকেন্দ্রিক সেবা ও তদন্তের জন্য থানায় পৃথক এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল পদায়নের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই বিশেষায়িত ইউনিটের মাধ্যমে বাংলাদেশে সাইবার স্পেসের অপব্যবহার এবং বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ দমন ও প্রতিরোধ আরও কার্যকর হবে।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।