সিলেট সরকারী আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
সিলেটজুড়ে শনিবার ছিল রাজনৈতিক উত্তাপ, স্লোগান আর প্রতিশ্রুতির দিন। সকাল থেকে রাত—কুলাউড়া, হবিগঞ্জ ঘুরে বিকেল সাড়ে ৩টায় সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এসে নির্বাচনী সমাবেশে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান উচ্চারণ করলেন এক প্রতীকী বার্তা—
“আধুনিক বিশ্বে মিসাইল নিক্ষেপ করলে এন্টি-মিসাইল খেতে হয়।
প্রতিপক্ষের অপপ্রচারের জবাবে দেওয়া এই বক্তব্য মুহূর্তেই সমাবেশে সাড়া তোলে। দাঁড়িপাল্লা হাতে তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি আমার মা-বোনদের ইজ্জতের পক্ষে দাঁড়ালাম, আর তারাই সেটাকে প্রতিপক্ষ বানিয়েছে।
সিলেটি ভাষায় শুরু, আবেগে ভাসালেন জনতা
বক্তব্যের শুরুতেই সিলেটি ভাষায় জনতার সঙ্গে হৃদ্যতা গড়ে তোলেন জামায়াত আমির। হাসিমুখে বলেন, আপনারা ভালা আছইন নি? অনেকদিন পর সিলটী ভাষায় মাতরাম।
এই সংলাপেই মাঠজুড়ে করতালি আর স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ।
জামায়াতের নয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি ক্ষমতার রাজনীতি নয়, জনগণের মুক্তির রাজনীতি করতে চান।
আমি জামায়াতের বিজয় চাই না—আমি চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। যারা বছরের পর বছর জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের মুক্তিই আমাদের লক্ষ্য।
প্রতিশোধ নয়, নীতির রাজনীতি– ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আগে লাখ লাখ মামলা হয়েছে। তবুও আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি করিনি। ৫ আগস্টের পরও কোনো নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করিনি। আমরা কথা দিয়েছিলাম—জালিমের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেব না। আমাদের কর্মীরা সেই কথা রেখেছে।
তিনি যোগ করেন,যারা কথা রাখতে পারেনি, তাদের বিচার করবে জাতি।
সিলেটের বঞ্চনার অবসান ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি,
ক্ষমতায় গেলে সিলেটের ন্যায্য হিস্যা আদায়ের অঙ্গীকার করে জামায়াত আমির বলেন, সিলেটের প্রাকৃতিক সম্পদের সুষম ব্যবহার হয়নি, নদী দখল হয়েছে—এই বঞ্চনার অবসান ঘটানো হবে।
* চাঁদাবাজির পথ বন্ধ হলে বাংলাদেশ রোল মডেল রাষ্ট্রে পরিণত হবে। আমাদের একটি সুযোগ দিন—পাঁচ বছরে দেশ বদলে দেব।
* প্রবাসী ও সিলেটবাসীর জন্য বড় ঘোষণা
বক্তব্যে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেন—
সিলেট বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে রূপান্তর।
* প্রবাসে কোনো রেমিট্যান্স যোদ্ধা মারা গেলে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা।
* প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রশ্নে জামায়াতের ভূমিকার কথা তুলে ধরে দাবি করেন, তাদের আন্দোলনের ফলেই প্রবাসীরা ভোটার হয়েছেন।
প্রার্থী পরিচয় ও প্রতীক নিয়ে স্লোগান
সমাবেশে সিলেটের তিনটি আসনে দাঁড়িপাল্লা, তিনটি আসনে দেওয়াল ঘড়ি ও রিকশা প্রতীকের এবং সুনামগঞ্জের তিনটি আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন জামায়াত আমির। নিজ হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে ধরে প্রার্থীদের পক্ষে স্লোগান দেন তিনি।
তবে সুনামগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী শিশির মনির সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন না।
দিনভর তিন সমাবেশ, সিলেটজুড়ে রাজনৈতিক ব্যস্ততা
শনিবার বিএনপির সমাবেশের পর একই দিনে সিলেটে তিনটি পৃথক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। সকালে হবিগঞ্জের নিউ ফিল্ড মাঠে, দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় এবং বিকেলে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বক্তব্য রাখেন তিনি।
মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং নায়বে আমির নুরুল ইসলাম বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াত ও অন্যান্য নেতারা । সিলেটের সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, খেলাফত মজলিসের নায়বে আমির রেজাউল করিম জালালী, সিলেট-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট-৬ আসনের প্রার্থী সেলিম উদ্দিন, খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি এমরান আলম, জামায়াতের সিলেট অঞ্চল টিম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি ইকবাইল হোসাইন, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগাসহ দলীয় ও জোটভুক্ত নেতারা।
