ছবি সংগৃহীত
পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে ২০ জেলেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করেছে জলদস্যুরা। বৃহস্পতিবার রাতে মাহমুদা নদীর মাইটভাঙা খাল, রাজাখালী খাল, চুনকুড়ি নদীর শুবদি খাল, মালঞ্চ নদীর উলুবেড়ে খাল, মাইশার কোলসহ দোবেঁকীর কোস্টগার্ড অফিসসংলগ্ন কলাগাছি খাল থেকে তারা অপহরণের শিকার হন।
ভুক্তভোগীদের পালিয়ে আসা সহকর্মীদের ভাষ্য, ‘ডন বাহিনী’ পরিচয় দিয়ে জলদস্যুরা তাদের তুলে নিয়ে যায়। এ জন্য মুক্তিপণ হিসেবে প্রতি জেলের পরিবারের কাছে তারা ৪০ হাজার টাকা দাবি করেছে।
ফিরে আসা জেলেরা শুক্রবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তারা হলেন– সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার চুনকুড়ি গ্রামের সাদেক আক্কাছ, হরিনগরের আবু তাহের, রাজেত আলী, নজরুল গাইন, শুকর আলী, আবুল কালাম, হরিনগর ধলের আশিকুল, হাফিজুর, ছোট ভেটখালীর আসাদুল, আমজাদ আলী, মীরগাং গ্রামের ইউসুফ আলী ও মৌখালীর মিলন হোসেন। অপর আটজনের পরিচয় জানা যায়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফিরে আসা কয়েকজন জেলে জানিয়েছেন, ৮-৯ দিন আগে কদমতলা স্টেশন অফিস থেকে পাস (অনুমতিপত্র) নিয়ে তারা মাছ শিকার করতে সুন্দরবনে যান। প্রতিটি নৌকায় দু-তিনজন জেলে ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতের বিভিন্ন সময়ে প্রতি নৌকা থেকে একজন করে জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় সফিকুল-শাহাজানের নেতৃত্বে আটজন জলদস্যু। নিজেদের ‘ডন বাহিনী’ পরিচয় দিয়ে তারা অপহৃত জেলেদের মুক্তির জন্য যোগাযোগ করতে একটি মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে যায়। ওই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে জেলেদের মুক্তির জন্য পরিবারের সদস্যদের কাছে ৪০ হাজার করে টাকা দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় জেলেরা জানায়, শ্যামনগর উপজেলার মৌখালী ও তদসংলগ্ন আটিরউপর গ্রামের ভেটো সফিকুল-শাহাজান ছয়জন সহযোগীকে নিয়ে এই কাজ করেছে। ভেটো সফিকুল ও শাহাজান অতীতে র্যাবের কাছে অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। তবে প্রায় তিন মাস ধরে আবারও তারা সুন্দরবনে নেমে ‘ডন বাহিনী’ পরিচয়ে দস্যুতা করছে।
জেলে ও অপহৃত জেলেদের স্বজনের ভাষ্য, অপহরণের ঘটনাটি পুলিশ বা কোস্টগার্ডকে জানালে জিম্মি জেলেদের জীবনহানির আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি তাদের শারীরিক নির্যাতনেরও হুমকি দিয়েছে দস্যুরা। তাই বাধ্য হয়ে তারা জলদস্যুদের সঙ্গে আপস করে মুক্তিপণের অঙ্ক কমিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
হরিনগর গ্রামের মহাজন আকরাম হোসেন বলেন, একজন করে অপহরণ করে দস্যুরা মুক্তিপণের টাকার জন্য নৌকাসহ অন্য জেলেদের ছেড়ে দিয়েছে। জলদস্যুদের সরবরাহ করা নম্বরে কল দেওয়ার পর মাথাপিছু ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের জলদস্যু তৎপরতা রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তার।
শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত এ বিষয়ে সরাসরি অভিযোগ পাননি বলে জানান শ্যামনগর থানার ওসি মো. খালেদুর রহমান। তিনি খোঁজ নিচ্ছেন।
বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা স্টেশন অফিসার মনিরুল ইসলাম বলেন, তার স্টেশন থেকে পাস নিয়ে বনে গিয়ে কিছু জেলে ডাকাতের হাতে জিম্মি হয়েছেন। ফিরে আসা জেলেদের কাছ থেকে এ তথ্য পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জার মো. ফজলুল হকের ভাষ্য, রেঞ্জ অফিস থেকে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোস্টগার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। বনের ভেতরে থাকা টহল ফাঁড়িগুলোকে এ বিষয়ে খোঁজ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন।
