মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান যেন আজ এক অন্যরকম আবেগে ভেসেছে। ভালোবাসা, দায়িত্ব আর মানবিকতার এক অনন্য গল্প লিখেছে ফ্রেন্ডস এসোসিয়েশন অব মালখানগর। তাদের উষ্ণ হৃদয়ের স্পর্শে আলোকিত হয়েছে মালখানগর হাইস্কুলের প্রায় ২৫০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর জীবন।
সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬—বিদ্যালয়ের হলরুমে ছিল এক হৃদয়ছোঁয়া আয়োজন। যেন বই-খাতা নয়, প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছিল স্বপ্ন, সম্ভাবনা আর এক টুকরো আলোকিত ভবিষ্যৎ। গ্রামার বই, খাতা, কলম, এমনকি সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর—সবকিছুতেই ছিল যত্ন আর ভালোবাসার ছোঁয়া।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মঞ্জুরুল আলম। বিশেষ অতিথিদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত ও গর্বময়। এছাড়া বিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী সিনিয়র শিক্ষক বাবু রবীন্দ্র চন্দ্র ভাওয়াল ও মোঃ মনিরুল ইসলাম খানকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়—যেন শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার এক অনবদ্য মিলন।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটি যেন এক মানবিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়। সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বাহার, যার কণ্ঠে ছিল দায়বদ্ধতার দৃঢ় প্রতিধ্বনি। স্বাগত বক্তব্যে বাহাউদ্দিন বাহার বলেন, কোনো স্বপ্ন যেন শুধুমাত্র অভাবের কারণে থেমে না যায়—এই বিশ্বাস থেকেই আমাদের এই পথচলা।
সভাপতির বক্তব্যে আশ্রাফুজ্জামান সোহেল যেন আবেগ ছুঁয়ে যান সবার হৃদয়— শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, আর সেই মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করতে হলে আমাদের সবাইকে ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। উপকরণ হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের চোখে ছিল উজ্জ্বল আনন্দ, কৃতজ্ঞতার ঝিলিক—আর এক অদম্য প্রতিজ্ঞা, আমরা পারব।
অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকদের কণ্ঠে শোনা যায় এক দৃঢ় অঙ্গীকার—এ পথচলা থামবে না। মানবিকতার এই আলো ছড়িয়ে যাবে আরও দূরে, আরও গভীরে।
স্থানীয়দের মতে, এমন উদ্যোগ শুধু সহায়তা নয়—এটি এক নিঃশব্দ বিপ্লব, যা বদলে দিতে পারে একটি সমাজ, একটি প্রজন্ম, এমনকি একটি জাতির ভবিষ্যৎ।
