রবিবার, ২৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হাসপাতালের বেডে রক্তাক্ত প্রেম-বিদ্বেষের প্রতিশোধ! কোটালীপাড়ায় চিকিৎসাধীন যুবককে কুপিয়ে মৃত্যুর মুখে

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি 
মার্চ ২৭, ২০২৬ ৭:১৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রাসেল বিশ্বাস ছবি: সংগৃহীত

জমি বিরোধের আগুন ছড়িয়ে পড়ল হাসপাতালের ভেতরে—দুই দফা হামলায় আশঙ্কাজনক রাসেল বিশ্বাস।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় যেন বাস্তবের মাটিতে রচিত হলো এক ভয়ংকর নাটক—যেখানে শত্রুতা, প্রতিশোধ আর রক্তের গন্ধ মিশে গেল হাসপাতালের সাদা দেয়ালে। নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিচিত হাসপাতালই পরিণত হলো নির্মম হামলার মঞ্চে।

এদিকে শুক্রবার সকালে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা যুবক রাসেল বিশ্বাস (২৫)-এর ওপর চালানো হয় নৃশংস হামলা। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের লোকজন হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে তাকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। বর্তমানে তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। তবে এর আগের রাতেই শুরু হয় এই রক্তাক্ত অধ্যায়ের প্রথম দৃশ্য। জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার রাতে রাসেলকে মারধর করে প্রতিপক্ষ। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, সেখানেও শেষ রক্ষা হয়নি।

চিকিৎসক ও স্বজনেরা জানিয়েছেন, রাসেল বিশ্বাসের অবস্থা আশঙ্কাজনক

স্বজনদের অভিযোগ, পুরনো শত্রুতার আগুন বুকে নিয়ে শুক্রবার সকালে আবারও হাসপাতালে হানা দেয় প্রতিপক্ষের লোকজন। রাসেলের ভাই রবিউল বিশ্বাস জানান, শাওন, বাবু, মানিক, অনিক ও হাফিজুর বিশ্বাস মিলে তার ভাইয়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুহূর্তেই হাসপাতালের নীরবতা ভেঙে যায় চিৎকার আর রক্তের স্রোতে।

এই ঘটনার পেছনে রয়েছে আপন ভাইদের মধ্যকার জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব। রাসেলের বাবা জামাল বিশ্বাস ও তার চাচা পান্না বিশ্বাসের বিরোধ যেন ধীরে ধীরে রূপ নিয়েছে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে—যেখানে আত্মীয়তার বন্ধন হার মানছে প্রতিশোধের কাছে।
অভিযুক্ত পান্না বিশ্বাসকে তার বাড়িতে পাওয়া যায়নি, এমনকি তার মুঠোফোনও ছিল বন্ধ। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে কোটালীপাড়া থানার এসআই সুব্রত মালো জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে হাসপাতালের পরিবেশ শান্ত রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

একসময় যে হাসপাতাল জীবনের আশ্রয় দেয়, সেখানেই যখন ঝরে রক্ত—তখন প্রশ্ন জাগে, নিরাপত্তা কোথায়? আর কতটা গভীরে পৌঁছালে থামবে এই প্রতিশোধের অন্ধকার গল্প?

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।