সোমবার, ১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৬ মাসে ৫ লাখ সরকারি চাকরি: দ্রুত নিয়োগের উদ্যোগ, খরচ সাড়ে ৮ কোটি টাকা

আবদুর রহমান
এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১২:০৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আগামী ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নেওয়া এই পরিকল্পনায় প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শূন্য পদ পূরণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত মার্চ মাসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তর-সংস্থার শূন্য পদে নিয়োগের একটি সমন্বিত প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে কর্মপরিকল্পনা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নিয়োগ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। আর তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম সমন্বয় করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সব মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরিকল্পনা পাওয়া গেছে এবং তা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

এ বিষয়ে পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম বলেন, আগামী ছয় মাসে কতসংখ্যক জনবল নিয়োগ দেওয়া সম্ভব, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে কোন পদে কতজন নিয়োগ দেওয়া হবে, তা নথি পর্যালোচনা করে জানাতে হবে। তিনি আরও বলেন, নিয়মিত বিসিএস কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষ নিয়োগ উদ্যোগ নেওয়া হলে সেটিও বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

এই বৃহৎ নিয়োগ কার্যক্রমে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা এবং আগামী অর্থবছরের (২০২৬-২৭) জুলাই-আগস্টে ব্যয় হবে আরও ৪ কোটি টাকা। এই ব্যয় নিয়মিত রাজস্ব বাজেট থেকেই বহন করা হবে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন সরকারি কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এর বিপরীতে শূন্য রয়েছে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে শূন্য ৬৮ হাজার ৮৮৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি, তৃতীয় শ্রেণিতে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি এবং চতুর্থ শ্রেণিতে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি পদ রয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের অধীনে প্রায় ৩২ শতাংশ পদ খালি রয়েছে, যার সংখ্যা ৭৭ হাজার ৮৭৭টি। এ খাতে প্রায় এক লাখ জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ১৮০ দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে পাঁচ লাখ জনবল নিয়োগের চেষ্টা চলছে।

তবে এত বড় নিয়োগ কার্যক্রম বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, অনেক দপ্তরে নিয়োগ বিধি না থাকা, আইনি জটিলতা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হতে পারে।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হলে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে এবং জটিলতা দ্রুত সমাধান করতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে নিয়োগ সম্পন্ন করা গেলে একদিকে যেমন বেকারত্ব কমবে, অন্যদিকে সরকারি সেবার মানও বাড়বে। তবে বাস্তবায়নের গতি ও স্বচ্ছতাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।