বুধবার, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা–ওয়াশিংটন বাণিজ্য চুক্তি: কমতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান ফাইল ছবি

বাংলাদেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা (রেসিপ্রোকাল) শুল্ক কমানোর বিষয়ে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে ঢাকা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাব্য তারিখ পাওয়া গেছে। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, ওই দিন চুক্তির খসড়ায় স্বাক্ষরের অনুমোদন চেয়ে সরকারের কাছে ইতোমধ্যে সামারি পাঠানো হয়েছে।

রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা একটি তারিখ পেয়েছি। খসড়া প্রস্তুত আছে। এখন শুল্কহার কত হবে, সেটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় নেওয়া হচ্ছে।

২০ শতাংশ শুল্ক—আরও কমার আশা–

বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের রেসিপ্রোকাল শুল্কহার ২০ শতাংশ। আগে তা ছিল ৩৭ শতাংশ, পরে ৩৫ শতাংশ। তৃতীয় দফা আলোচনার পর গত বছরের ৩১ জুলাই তা কমিয়ে ২০ শতাংশে নামানো হয়। তবে এ জন্য বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে।

শুল্ক আরও কমতে পারে কি না—এমন প্রশ্নে বাণিজ্য সচিব বলেন, অন্যান্য দেশেও ২০ শতাংশ আছে, অনেক দেশে আরও বেশি। তবে আমাদের একটা ধারণা আছে—এটা হয়তো কিছুটা কমতেও পারে। তবে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

তুলা–পোশাক চুক্তিই মূল ফোকাস–

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা দিয়ে উৎপাদিত পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা আদায়ের বিষয়টি চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই এ সুবিধা চেয়ে আসছিল বাংলাদেশ।

এর ফলে একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের তুলা রপ্তানি বাড়বে, অন্যদিকে বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের যুক্তরাষ্ট্র বাজারে প্রবেশ আরও সহজ হবে—যা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৪৬ মিলিয়ন ডলারের তুলা আমদানি করেছে বাংলাদেশ, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২৭৮ মিলিয়ন ডলার।

৬০০ কোটি ডলারের ঘাটতি কমাতে বড় অঙ্গীকার–

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৬০০ কোটি ডলার। এ ঘাটতি কমাতে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেড় বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ।

এর অংশ হিসেবে— বোয়িং থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনা (ব্যয় প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা), প্রতি বছর ৭ লাখ টন করে গম আমদানি, জ্বালানি তেল, ভোজ্যতেল, তুলা ও এলএনজি আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি, বেসামরিক উড়োজাহাজ যন্ত্রাংশ আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে বাণিজ্য সচিব স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিমান বা সামরিক ইস্যু কখনোই আসবে না। মিলিটারি বিষয় ট্রেড ইস্যুর অংশ নয়।

এফটিএ নিয়ে সরকারের প্রস্তুতি ও এলডিসি উত্তরণের পর শুল্ক সুবিধা হারানোর প্রেক্ষাপটে সরকার একাধিক দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করছে বলে জানান বাণিজ্য সচিব।

তিনি বলেন— ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষর হবে, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা শেষ, চলতি বছরেই চুক্তির আশা, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য বাজারে এফটিএ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। রপ্তানি ও রমজান বাজার গত ছয় মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যেই নেতিবাচক প্রবণতা আছে। আমাদের রপ্তানি ১.৬ শতাংশ কমেছে—৩.৭ শতাংশ নয়।

রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, এ বছর রমজানের বাজার পরিস্থিতি ভালো থাকবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।