১২ বছরের চাকরিতে ১৮ কোটি টাকার সম্পদ গড়ার অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক; অনলাইন পোর্টালের ইনবক্সে গালিগালাজসংবলিত বার্তা পাঠানোর দাবি। ফাইল ছবি
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি-ধমকি ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে কর অঞ্চল ঢাকা-৫-এর উচ্চমান সহকারী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। মাত্র ১২ বছরের চাকরিজীবনে বিপুল সম্পদ অর্জন ও ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিবেদনের বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা।
গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ একটি অনলাইন পোর্টালে ‘১২ বছরের চাকরিতে ১৮ কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন কর অঞ্চল ঢাকা-৫-এর উচ্চমান সহকারী ঘুষসম্রাট সাইফুল’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটিতে তাঁর সম্পদ অর্জন ও কথিত ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই পোর্টালসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিবেদকদের বিভিন্ন মাধ্যমে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফেসবুক ইনবক্সে অশ্রাব্য বার্তা পাঠানোর অভিযোগ
অভিযোগের সর্বশেষ ঘটনায়, গত ১৮ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে অনলাইন পোর্টালটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের ইনবক্সে সাইফুল ইসলাম আপত্তিকর ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজসংবলিত বার্তা পাঠান বলে দাবি করেছে পোর্টাল কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার স্ক্রিনশট সংরক্ষিত রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পোর্টালসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হচ্ছে। সর্বশেষ আপত্তিকর বার্তা পাঠানোর ঘটনাকে তাঁরা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন।
১২ বছরের চাকরিতে বিপুল সম্পদের অভিযোগ ঘিরে আলোচনা
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মাত্র ১২ বছরের চাকরিজীবনে একজন সাধারণ কর্মচারীর বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে ১৮ কোটি টাকার সম্পদ গড়ার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে, সম্পদ অর্জন ও ঘুষ বাণিজ্যসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে সাইফুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে তিনি কোনো আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি
পোর্টালসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, হুমকি ও গালিগালাজের মাধ্যমে স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করা যায় না। তাঁদের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তার পাঠানো আপত্তিকর বার্তার প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সাংবাদিকদের মতে, কোনো প্রতিবেদনের তথ্য বা বক্তব্য নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আইনানুগ পন্থায় প্রতিকার চাইতে পারেন। কিন্তু সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানো কিংবা অশ্রাব্য ভাষায় আক্রমণ করার অভিযোগ উঠলে তা যথাযথভাবে তদন্ত করা জরুরি।
তবে সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিপুল সম্পদ অর্জন, ঘুষ বাণিজ্য ও সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এখনো প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ করা জরুরি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
