বৃহস্পতিবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অনুসন্ধানী সিরিজ | পর্ব–১ “লাইসেন্সের লাইনে ঘুষের ছায়া: নিকুঞ্জ বিআরটিএ অফিসে অদৃশ্য সিন্ডিকেটের উত্থান” ★ সেবার দরজা বন্ধ, দালালের পথ খোলা ★ লাইসেন্স শাখায় অভিযোগের পাহাড়, নীরব কর্তৃপক্ষ ★ সহকারী পরিচালকের সম্পদ নিয়ে প্রশ্নের ঝড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ ২:৫৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাজধানীর নিকুঞ্জে অবস্থিত বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কার্যালয়—যেখানে প্রতিদিন শত শত মানুষ বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সের আশায় ভিড় করেন। কিন্তু অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক ভিন্ন বাস্তবতা। অভিযোগ, এখানে সেবা নয়—বরং দালাল নির্ভর এক অলিখিত নিয়ম চালু হয়েছে, যা সাধারণ আবেদনকারীদের ঠেলে দিচ্ছে ঘুষের ফাঁদে।

ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা বলছে, সরাসরি আবেদন করলে ফাইল আটকে থাকে। ট্রায়াল, মেডিকেল বা ডেট নির্ধারণে অকারণ বিলম্ব যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। অথচ দালালের মাধ্যমে গেলে একই কাজ কয়েক দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হয়ে যায়—যা প্রশাসনিকভাবে অস্বাভাবিক।
এক আবেদনকারীর কথায়, অফিসে গেলে বলা হয় অপেক্ষা করুন। কিন্তু দালাল ধরলেই সব দরজা খুলে যায়—এ যেন প্রকাশ্য গোপন চুক্তি।

দালালের দাপট : অফিসের ভেতর-বাইরে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ- লাইসেন্স শাখাকে ঘিরে সক্রিয় দালালদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম সোহেল হাওলাদার। অভিযোগ রয়েছে, অফিসের ভেতরে ও বাইরে তার অবাধ যাতায়াত রয়েছে এবং আবেদনকারীদের সঙ্গে সরাসরি দরকষাকষি করেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আবেদনকারীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নিয়ে দ্রুত লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন এই দালাল। অনেক ক্ষেত্রে অফিসের ভেতরের কর্মকর্তাদের নাম উল্লেখ করে ‘গ্যারান্টি’ দেওয়া হয়—যা একটি শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের ইঙ্গিত দেয়।
ভুক্তভোগীদের দাবিগুলোর মধ্যে-
*দালাল ছাড়া ফাইল অগ্রগতি পায় না
*অতিরিক্ত টাকা দিলে টেস্টে ‘সহজতা’ তৈরি হয়
*ডেটা এন্ট্রি ও অনুমোদন দ্রুত সম্পন্ন হয়
এই অভিযোগগুলো মিলিয়ে লাইসেন্স শাখায় একটি সমন্বিত সিন্ডিকেটের অস্তিত্বের ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে।

সম্পদের রহস্যে ঘেরা সহকারী পরিচালকের জীবনযাপন নিয়ে নানা প্রশ্ন- অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সহকারী পরিচালক জিয়াউর রহমানকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তার সম্পদ নিয়ে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় দুটি বাড়ির মালিকানার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বাড়ি-৪১৩, রোড-৯, ব্লক-এফ
রোড-১৩, ব্লক-জে
এছাড়া ব্যবহৃত বিলাসবহুল টয়োটা প্রিয়াস (ঢাকা মেট্রো-গ ১৬-১৪১৭) গাড়িটিও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের মতে, সরকারি বেতনের সঙ্গে এই সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে সন্দেহ অস্বাভাবিক নয়।
একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, লাইসেন্স শাখায় পোস্টিং পাওয়া মানেই ‘অতিরিক্ত সুযোগ’—যা দীর্ঘদিন ধরে অফিসপাড়ায় আলোচিত।
অভ্যন্তরীণ বলয়: ইন্সপেক্টর–অপারেটর সমন্বয়ে সিন্ডিকেটের বিস্তার”
অভিযোগকারীদের দাবি, লাইসেন্স প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের প্রভাব রয়েছে। আলোচনায় থাকা নামগুলো—
শরিফ উদ্দিন — ইন্সপেক্টর
রাশেদুজ্জামান — ইন্সপেক্টর
ফয়সাল — ইন্সপেক্টর
সাগর — কম্পিউটার অপারেটর
আওলাদ — কম্পিউটার অপারেটর
অভিযোগ অনুযায়ী, আবেদন যাচাই, টেস্ট শিডিউল, ডাটা এন্ট্রি এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের ধাপগুলোতেই সিন্ডিকেটের প্রভাব থাকায় দালাল ছাড়া সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রশাসনিক নীরবতা : অভিযোগ থাকলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই, লাইসেন্স শাখায় দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ উঠলেও দৃশ্যমান তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না থাকায় প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে। সেবাগ্রহীতাদের মতে, অভিযোগ জানালেও ফল পাওয়া যায় না—ফলে আস্থাহীনতা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মত, সম্পদের উৎস যাচাইয়ে দুদকের তদন্ত, দালালমুক্ত সেবা নিশ্চিতে কঠোর মনিটরিং, লাইসেন্স প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ ডিজিটাল স্বচ্ছতা
—এই পদক্ষেপগুলো জরুরি হয়ে উঠেছে।

সিরিজ প্রতিবেদনের পরবর্তী পর্বে থাকছে-
.দালালচক্রের অর্থ বণ্টনের অভিযোগ
.লাইসেন্স পরীক্ষায় অনিয়মের কৌশল
.ভুক্তভোগীদের সরাসরি অভিজ্ঞতার পূর্ণ বিবরণ
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া
উল্লেখ্য যে,নিকুঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয় ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো বিচ্ছিন্ন নয়—বরং একটি কাঠামোগত অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়। অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তে প্রমাণিত হলে তা শুধু ব্যক্তিগত দুর্নীতি নয়, বরং জনসেবা ব্যবস্থার গভীর সংকটের প্রতিফলন হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
নগর-মহানগর সর্বশেষ