সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম শামীম। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শ্বশুরবাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মো. জাহাঙ্গীর আলম শামীম (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
বুধবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের মধ্যভাটেরখিল এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। পরে রাত ১টার দিকে বেড়িবাঁধ তলতলা এলাকা থেকে তার ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, শামীমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার পাশাপাশি তার হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। মাথায়ও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা হত্যাকাণ্ডের নির্মমতারই ইঙ্গিত দেয়।
নিহত শামীম সীতাকুণ্ড পৌরসভার শিবপুর এলাকার আবুল মনসুরের ছেলে। তার ভাই মো. সেলিম জানান, রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন শামীম। সম্প্রতি আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছিলেন তিনি। ঘটনার দিন তার স্ত্রী স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা সংগ্রহ করতে বাবার বাড়িতে যান, আর সন্ধ্যায় শামীমও সেখানে উপস্থিত হন।
সেলিমের অভিযোগ, রাত ৮টার দিকে মো. জাফর ও ইরানের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল বাড়ি থেকে শামীমকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে কুপিয়ে ও রগ কেটে হত্যা করে লাশ ফেলে যায়। দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত জাফর ও ইরান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। যদিও সম্প্রতি ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়ায় তাদের বর্তমান পদ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আরও জানা যায়, শামীমের ভগ্নিপতি মোহাম্মদ আলী সীতাকুণ্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একজন হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এলাকাবাসীর দাবি, শামীমও এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিনুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, নিহতের মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা দায়ের হয়নি, তবে হত্যার কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
ওসি মহিনুল ইসলামের ভাষ্য, নিহত কিংবা সন্দেহভাজন—দুই পক্ষের অতীত রেকর্ডই ভালো নয়। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
