কুষ্টিয়া-এর আকাশে যেন হঠাৎ নেমে এসেছে এক বিষণ্ণ নীরবতা। এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের আবাসিক ছাত্র তন্ময়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোক আর প্রশ্নে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। নবম শ্রেণির এই কিশোরের স্বপ্নগুলো যেন রাতের অন্ধকারেই থেমে গেল—নিরবে, নিঃশব্দে, অথচ অসংখ্য প্রশ্ন রেখে।
এদিকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, তন্ময় দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিল। প্রতিদিনের মতোই সেদিন রাতেও খাওয়া-দাওয়া শেষে সহপাঠীদের সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়ে সে। কিন্তু গভীর রাতে আচমকা তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে রাত আনুমানিক ২টার দিকে তাকে দ্রুত কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে এই মৃত্যুর গল্পে যেন লুকিয়ে আছে অন্য এক বেদনাদায়ক অধ্যায়। আবাসিকের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের অভিযোগ—তন্ময় অসুস্থ হওয়ার পর তাকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। বরং অনেকক্ষণ পরে, যখন সবকিছু নিস্তব্ধ হয়ে গেছে, তখনই তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এমনকি তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর আবাসিক ভবনের ভেতরেই শিক্ষার্থীদের আটকে রাখা হয়েছিল।

আবার দৌলতপুর উপজেলার বাসিন্দা তন্ময়ের এই অকাল প্রস্থান শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং পুরো কুষ্টিয়ার হৃদয়ে এক গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। ভালোবাসা, বন্ধুত্ব আর স্বপ্নে ভরা এক কিশোর জীবনের এমন হঠাৎ সমাপ্তি যেন সবাইকে প্রশ্ন করতে বাধ্য করছে—এই মৃত্যু কি শুধুই অসুস্থতার, নাকি অবহেলারও?
এ ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। সত্যের খোঁজে এখন তাকিয়ে আছে সবাই—কী ঘটেছিল সেই রাতের নিস্তব্ধতায়, আর কেনই বা বাঁচানো গেল না তন্ময়কে?
