শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অবৈধ ব্যবসায় গণপূর্তের পাঁচ প্রকৌশলী এখন ‘মিনি শিল্পপতি’

নিজস্ব প্রতিবেদক
অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ৯:২০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সরকারি চাকরির বিধি লঙ্ঘন করে ডেভেলপার ব্যবসার অভিযোগ, ভবন নির্মাণ ও ফ্ল্যাট বিক্রিতে সক্রিয় ‘নেটওয়ার্ক’ প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন, দুদকে অভিযোগের প্রস্তুতি। ফাইল ছবি

সরকারি চাকরির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডেভেলপার ব্যবসায় যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের পাঁচ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরির বিধিবিধান ও স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি উপেক্ষা করে রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ভবন নির্মাণ, ফ্ল্যাট-অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি এবং আবাসন ব্যবসার বিস্তৃত কার্যক্রমে তাঁরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত। বড় ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের মতোই নিজেদের ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অভিযোগে তাঁদের কেউ কেউ এখন ‘মিনি শিল্পপতি’ হিসেবে আলোচনায়।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান মিজান। তাঁর সঙ্গে উপসহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার খান আনু, সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) আবুল বাসার, উপসহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) আব্দুর রউফ এবং সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) গুলনাহারের সম্পৃক্ততার অভিযোগও সামনে এসেছে। তাঁদের পরিবারের কয়েকজন সদস্যের নামও এসেছে কথিত ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সূত্র ধরে।

অনুসন্ধানে পাওয়া বিভিন্ন নথি, বিজ্ঞাপন, প্রসপেক্টাস, ভিডিও ফুটেজ ও প্রচারণামূলক তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে বলে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের প্রকৃত মালিকানা, অংশীদারত্ব, আর্থিক লেনদেন এবং ব্যবসায়িক ভূমিকা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। এদিকে অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মিজানকে ঘিরে ‘ডেভেলপার নেটওয়ার্ক’, সামনে ফিউচার ড্রিম বিল্ডার্স

গণপূর্তের উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান মিজানের পরিবারের সদস্যদের ঘিরে ডেভেলপার ব্যবসার একটি নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন প্রচারণামূলক তথ্য অনুযায়ী, তাঁর দুই ভাই ফিউচার ড্রিম বিল্ডার্সে হেড অব মার্কেটিং পদে রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২০ সাল থেকে এই ডেভেলপার ব্যবসার কার্যক্রম শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর পরিধি বেড়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় ভবন নির্মাণ ও ফ্ল্যাট বিক্রির কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। এ-সংক্রান্ত কিছু ভিডিও ফুটেজ, নথি ও প্রচারণামূলক তথ্য অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

তবে প্রতিষ্ঠানের মালিকানা কাঠামো, প্রকৃত অংশীদার কারা এবং সরকারি চাকরিতে থাকা প্রকৌশলীদের সঙ্গে ব্যবসাটির আর্থিক সম্পর্ক কী—এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর পেতে কোম্পানির নিবন্ধন, শেয়ার মালিকানা, ব্যাংক লেনদেন ও আয়করসংক্রান্ত নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

একাধিক কার্যালয়, বিস্তৃত সেবার প্রচার

অনুসন্ধানে ফিউচার ড্রিম বিল্ডার্সের একাধিক কার্যালয়ের ঠিকানা পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে মোহাম্মদপুরের বসিলা ব্রিজসংলগ্ন ওয়াশপুর টাওয়ার, মিরপুর-১-এর গৈলারটেক, উত্তরা দক্ষিণ মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন দিয়াবাড়ি এবং সাভার ডিওএইচএস-নবীনগর এলাকা।

ওয়াশপুর টাওয়ারে প্রতিষ্ঠানটির একটি কার্যালয়ের ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে—অফিস-২, ১৮/৪, নিচতলা, ওয়াশপুর টাওয়ার, ওয়াশপুর, মোহাম্মদপুর-বসিলা ব্রিজসংলগ্ন, ঢাকা।

এ ছাড়া মিরপুর-১-এর গৈলারটেক এলাকায় অফিস-১, নিচতলা, ওয়ার্ড-১০-এর ঠিকানাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে মহাব্যবস্থাপক হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার মো. রাশেদ-উল আলমের নাম পাওয়া যায়।

ফিউচার ড্রিম বিল্ডার্স নিজেদের ডিজাইন, কনস্ট্রাকশন ও ইন্টেরিয়র সলিউশন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচয় দেয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রচারিত সেবার তালিকায় রয়েছে ভবন নকশা ও নির্মাণ, স্ট্রাকচারাল ও আর্কিটেকচারাল ডিজাইন, ইলেকট্রিক্যাল ও প্লাম্বিং ডিজাইন, রাজউকের প্ল্যান পাস, মাটি পরীক্ষা, হোম ইন্টেরিয়র এবং অফিস ইন্টেরিয়র।

প্রতিষ্ঠানটির প্রচারণায় মোহাম্মদপুরের বসিলা ও ওয়াশপুর এলাকার কার্যক্রম বিশেষভাবে সামনে এসেছে। এসব ঠিকানা ও প্রচারণামূলক তথ্য থেকে ব্যবসার পরিধি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেলেও, প্রতিটি কার্যালয়ের প্রকৃত কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মালিকানার সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

বসিলা-ওয়াশপুরে ভবন নির্মাণ, ফ্ল্যাট বিক্রির অভিযোগ

বসিলা, ওয়াশপুর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ফিউচার ড্রিম বিল্ডার্সের নামে ভবন নির্মাণ এবং ফ্ল্যাট-অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির কার্যক্রম রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কার্যক্রমের সঙ্গে গণপূর্তের কয়েকজন প্রকৌশলী ও তাঁদের স্বজনদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত কোনো প্রকৌশলী ব্যক্তিগতভাবে আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলে তা দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত তৈরি করছে কি না। কারণ, গণপূর্তের প্রকৌশলীরা নির্মাণকাজের তদারকি, প্রকল্পের প্রাক্কলন, কারিগরি মূল্যায়ন এবং বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

যদিও কোনো প্রকৌশলীর আত্মীয়ের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা থেকেই ওই কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ মালিকানা বা অপরাধ প্রমাণিত হয় না, তবু অভিযোগের যথার্থতা যাচাইয়ে তাঁদের আর্থিক সম্পর্ক, বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট নথি পরীক্ষা করা জরুরি।

সরকারি চাকরির বিধি কী বলছে?

সরকারি চাকরির আচরণবিধি অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীর ব্যক্তিগত ব্যবসা, বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড এবং কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। প্রযোজ্য বিধি ও ব্যতিক্রমের শর্ত অনুসারে অনুমতি ছাড়া লাভজনক ব্যবসায় সরাসরি যুক্ত হওয়া বা কোম্পানি পরিচালনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিভাগীয় তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

বিশেষ করে কোনো কর্মকর্তা তাঁর সরকারি পদ, দায়িত্ব বা দাপ্তরিক প্রভাব ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ব্যবসায় সুবিধা নিলে তা আরও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে কোন বিধি প্রযোজ্য, তাঁরা কোনো অনুমতি নিয়েছিলেন কি না এবং তাঁদের ভূমিকা কতটা প্রত্যক্ষ—এসব বিষয় নথিপত্রের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অবৈধ সম্পদ কিংবা দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

প্রসপেক্টাসে ব্যবসার বিস্তৃত চিত্র, উঠছে মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন

অনুসন্ধানে পাওয়া ফিউচার ড্রিম বিল্ডার্সের একটি প্রসপেক্টাসে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন প্রকল্প ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের তথ্য রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কার্যক্রমের নেপথ্যে গণপূর্তের কয়েকজন প্রকৌশলী এবং তাঁদের স্বজনদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা থাকতে পারে।

তবে প্রসপেক্টাস, বিজ্ঞাপন কিংবা কোনো ব্যক্তির নাম প্রতিষ্ঠানের প্রচারণায় থাকা একাই মালিকানা বা আর্থিক অংশীদারত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। প্রকৃত চিত্র জানতে কোম্পানির নিবন্ধনপত্র, শেয়ারহোল্ডার তালিকা, পরিচালনা পর্ষদের তথ্য, জমির দলিল, প্রকল্পের অনুমোদন, ফ্ল্যাট বিক্রির চুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সরানো হয়েছে বিজ্ঞাপন?

অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত গণপূর্ত প্রকৌশলীদের কথিত ডেভেলপার ব্যবসা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর ডালাস ডেভেলপারস অ্যান্ড প্রপার্টিজ লিমিটেড ও ফিউচার ড্রিম বিল্ডার্সের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত কিছু বিজ্ঞাপন, ছবি ও ভিডিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অনলাইন প্রচারণায় পরিবর্তন আনা হলেও প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমসংক্রান্ত কিছু নথি ও তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। তবে বিজ্ঞাপন সরিয়ে নেওয়ার কারণ এবং এর সঙ্গে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আরও অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসার কৌশলে পরিবর্তন এনে জমি কেনা এবং শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি মোহাম্মদপুরের বসিলা ও কেরানীগঞ্জ এলাকায় ভবন নির্মাণ করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির তথ্যও সামনে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান তাঁর সহোদর ভাইদের মাধ্যমে ব্যবসার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তাঁর এক আত্মীয়ের সঙ্গেও ডেভেলপার ব্যবসায় যোগসাজশ থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব দাবির সত্যতা নির্ধারণে ব্যবসায়িক নথি ও আর্থিক লেনদেন যাচাই করা প্রয়োজন।

উত্তরা সাইট দেখাশোনায় মিজানের ভাই, প্রশ্ন উঠছে ভূমিকা নিয়ে

অভিযোগ রয়েছে, উত্তরা এলাকায় ফিউচার ড্রিম বিল্ডার্সের একটি নির্মাণাধীন সাইট দেখাশোনা করছেন মিজানের ভাই ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ। এ-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে নির্মাণাধীন সাইটে কোনো ব্যক্তির দায়িত্ব পালন এবং সরকারি চাকরিতে থাকা কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে ওই ব্যবসার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক—দুটি পৃথক বিষয়। ফলে সাইটটির মালিকানা, নির্মাণের অনুমোদন, অর্থায়নের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের আর্থিক সম্পৃক্ততা যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

ডালাস ডেভেলপারসের সঙ্গে ‘অদৃশ্য পার্টনারশিপ’-এর অভিযোগ

ডালাস ডেভেলপারস অ্যান্ড প্রপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে গণপূর্তের সহকারী প্রকৌশলী আবুল বাসারের কথিত অপ্রকাশিত অংশীদারত্বের অভিযোগও সামনে এসেছে। এ বিষয়ে সাভার ডিওএইচএস এলাকার কিছু তথ্য ও নথির কথা উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারীরা।

আবুল বাসার তাঁর বক্তব্যে কিছু বিষয় স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি রয়েছে। তাঁর বক্তব্য এবং এ-সংক্রান্ত কিছু তথ্য সংরক্ষিত থাকার কথাও জানানো হয়েছে। তবে বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, নথির সত্যতা এবং অংশীদারত্বের প্রকৃত ধরন যাচাই ছাড়া অভিযোগটিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

অভিযোগ রয়েছে, আবুল বাসার তাঁর সহোদর ভাই ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ-উল আলমের মাধ্যমে ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির ব্যবসায় সম্পৃক্ত। এ ক্ষেত্রে দুই ভাইয়ের মধ্যে আর্থিক লেনদেন, কোম্পানির মালিকানা এবং বিক্রয় কার্যক্রমে তাঁদের ভূমিকা যাচাই করা প্রয়োজন।

বসিলা-ওয়াশপুরে ভবন নির্মাণ, ফ্ল্যাট বিক্রির অভিযোগ

বসিলা, ওয়াশপুর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ফিউচার ড্রিম বিল্ডার্সের নামে ভবন নির্মাণ এবং ফ্ল্যাট-অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির কার্যক্রম রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কার্যক্রমের সঙ্গে গণপূর্তের কয়েকজন প্রকৌশলী ও তাঁদের স্বজনদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত কোনো প্রকৌশলী ব্যক্তিগতভাবে আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলে তা দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত তৈরি করছে কি না। কারণ, গণপূর্তের প্রকৌশলীরা নির্মাণকাজের তদারকি, প্রকল্পের প্রাক্কলন, কারিগরি মূল্যায়ন এবং বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

যদিও কোনো প্রকৌশলীর আত্মীয়ের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা থেকেই ওই কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ মালিকানা বা অপরাধ প্রমাণিত হয় না, তবু অভিযোগের যথার্থতা যাচাইয়ে তাঁদের আর্থিক সম্পর্ক, বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট নথি পরীক্ষা করা জরুরি।

সরকারি চাকরির বিধি কী বলছে?

সরকারি চাকরির আচরণবিধি অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীর ব্যক্তিগত ব্যবসা, বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড এবং কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। প্রযোজ্য বিধি ও ব্যতিক্রমের শর্ত অনুসারে অনুমতি ছাড়া লাভজনক ব্যবসায় সরাসরি যুক্ত হওয়া বা কোম্পানি পরিচালনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিভাগীয় তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

বিশেষ করে কোনো কর্মকর্তা তাঁর সরকারি পদ, দায়িত্ব বা দাপ্তরিক প্রভাব ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ব্যবসায় সুবিধা নিলে তা আরও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে কোন বিধি প্রযোজ্য, তাঁরা কোনো অনুমতি নিয়েছিলেন কি না এবং তাঁদের ভূমিকা কতটা প্রত্যক্ষ—এসব বিষয় নথিপত্রের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অবৈধ সম্পদ কিংবা দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

প্রসপেক্টাসে ব্যবসার বিস্তৃত চিত্র, উঠছে মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন

অনুসন্ধানে পাওয়া ফিউচার ড্রিম বিল্ডার্সের একটি প্রসপেক্টাসে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন প্রকল্প ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের তথ্য রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কার্যক্রমের নেপথ্যে গণপূর্তের কয়েকজন প্রকৌশলী এবং তাঁদের স্বজনদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা থাকতে পারে।

তবে প্রসপেক্টাস, বিজ্ঞাপন কিংবা কোনো ব্যক্তির নাম প্রতিষ্ঠানের প্রচারণায় থাকা একাই মালিকানা বা আর্থিক অংশীদারত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। প্রকৃত চিত্র জানতে কোম্পানির নিবন্ধনপত্র, শেয়ারহোল্ডার তালিকা, পরিচালনা পর্ষদের তথ্য, জমির দলিল, প্রকল্পের অনুমোদন, ফ্ল্যাট বিক্রির চুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সরানো হয়েছে বিজ্ঞাপন?

অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত গণপূর্ত প্রকৌশলীদের কথিত ডেভেলপার ব্যবসা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর ডালাস ডেভেলপারস অ্যান্ড প্রপার্টিজ লিমিটেড ও ফিউচার ড্রিম বিল্ডার্সের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত কিছু বিজ্ঞাপন, ছবি ও ভিডিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অনলাইন প্রচারণায় পরিবর্তন আনা হলেও প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমসংক্রান্ত কিছু নথি ও তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। তবে বিজ্ঞাপন সরিয়ে নেওয়ার কারণ এবং এর সঙ্গে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আরও অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসার কৌশলে পরিবর্তন এনে জমি কেনা এবং শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি মোহাম্মদপুরের বসিলা ও কেরানীগঞ্জ এলাকায় ভবন নির্মাণ করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির তথ্যও সামনে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান তাঁর সহোদর ভাইদের মাধ্যমে ব্যবসার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তাঁর এক আত্মীয়ের সঙ্গেও ডেভেলপার ব্যবসায় যোগসাজশ থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব দাবির সত্যতা নির্ধারণে ব্যবসায়িক নথি ও আর্থিক লেনদেন যাচাই করা প্রয়োজন।

উত্তরা সাইট দেখাশোনায় মিজানের ভাই, প্রশ্ন উঠছে ভূমিকা নিয়ে

অভিযোগ রয়েছে, উত্তরা এলাকায় ফিউচার ড্রিম বিল্ডার্সের একটি নির্মাণাধীন সাইট দেখাশোনা করছেন মিজানের ভাই ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ। এ-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে নির্মাণাধীন সাইটে কোনো ব্যক্তির দায়িত্ব পালন এবং সরকারি চাকরিতে থাকা কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে ওই ব্যবসার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক—দুটি পৃথক বিষয়। ফলে সাইটটির মালিকানা, নির্মাণের অনুমোদন, অর্থায়নের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের আর্থিক সম্পৃক্ততা যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

ডালাস ডেভেলপারসের সঙ্গে ‘অদৃশ্য পার্টনারশিপ’-এর অভিযোগ

ডালাস ডেভেলপারস অ্যান্ড প্রপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে গণপূর্তের সহকারী প্রকৌশলী আবুল বাসারের কথিত অপ্রকাশিত অংশীদারত্বের অভিযোগও সামনে এসেছে। এ বিষয়ে সাভার ডিওএইচএস এলাকার কিছু তথ্য ও নথির কথা উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারীরা।

আবুল বাসার তাঁর বক্তব্যে কিছু বিষয় স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি রয়েছে। তাঁর বক্তব্য এবং এ-সংক্রান্ত কিছু তথ্য সংরক্ষিত থাকার কথাও জানানো হয়েছে। তবে বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, নথির সত্যতা এবং অংশীদারত্বের প্রকৃত ধরন যাচাই ছাড়া অভিযোগটিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

অভিযোগ রয়েছে, আবুল বাসার তাঁর সহোদর ভাই ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ-উল আলমের মাধ্যমে ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির ব্যবসায় সম্পৃক্ত। এ ক্ষেত্রে দুই ভাইয়ের মধ্যে আর্থিক লেনদেন, কোম্পানির মালিকানা এবং বিক্রয় কার্যক্রমে তাঁদের ভূমিকা যাচাই করা প্রয়োজন।

একই পরিবারের দুই প্রকৌশলী, স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আবুল বাসার গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম ডিভিশন-৬-এর আওতায় সাভারে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর সহধর্মিণী সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) গুলনাহারও গণপূর্তের ই/এম সার্কেল-৩-এ কর্মরত।

অভিযোগ রয়েছে, ডেভেলপার ব্যবসার কার্যক্রমে গুলনাহারেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে। একই পরিবারের দুজন সরকারি প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় তাঁদের ব্যবসায়িক স্বার্থ, বিনিয়োগ এবং দায়িত্ব পালনের সঙ্গে কোনো ধরনের স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

তবে পারিবারিক সম্পর্ক বা একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার বিষয়টি নিজে থেকেই অনিয়মের প্রমাণ নয়। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পদ বিবরণী, কোম্পানির মালিকানা, আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং দাপ্তরিক দায়িত্বের সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা জরুরি।

আব্দুর রউফের বিরুদ্ধেও ফ্ল্যাট বিক্রির কথোপকথনের অভিযোগ

কথিত ডেভেলপার ব্যবসার সঙ্গে উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রউফের সম্পৃক্ততার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি মুঠোফোনে কোন ভবনের কোন তলার ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি করা হবে, সে বিষয়ে কথা বলেছেন।

এ ধরনের কথোপকথন থাকলে তার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এবং লেনদেনের সঙ্গে তাঁর প্রকৃত সম্পর্ক যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু কথোপকথনের উল্লেখের ভিত্তিতে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব বা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয় না।

সাভার গণপূর্তে এক যুগ আনোয়ার, ভ্যালুয়েশন ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ

গণপূর্তের উপসহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার খান আনু দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ বছর ধরে সাভার ডিভিশনে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁর দীর্ঘ কর্মকালকে কেন্দ্র করে একাধিক অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ঢাকা-আশুলিয়া ও আব্দুল্লাহপুর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এলাকার ভ্যালুয়েশন কার্যক্রমে অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাভার গণপূর্তের পর্যটন এলাকার সামনে ও পেছনে থাকা জমিতে দোকানপাট ভাড়া দেওয়া কিংবা পজিশন বিক্রির ক্ষেত্রে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের মূল্যায়ন নথি, অনুমোদিত প্রাক্কলন, ভাড়া ও বরাদ্দের কাগজপত্র, আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য সুবিধাভোগীদের তথ্য যাচাই করা জরুরি। আনোয়ার খানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তই হতে পারে কার্যকর উপায়।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, দুদকে অভিযোগের প্রস্তুতি

পাঁচ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তাঁদের মতে, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রাথমিক অনুসন্ধান, নথি যাচাই এবং প্রয়োজন হলে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা উচিত।

অভিযোগের ধরন অনুযায়ী, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনেরও ভূমিকা থাকতে পারে। বিশেষ করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ, অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেন, গোপন অংশীদারত্ব কিংবা সরকারি পদ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

এদিকে অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে দুদকে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ দায়ের হয়েছে কিংবা দুদক আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করেছে—এমন তথ্য নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে ‘মিনি শিল্পপতি’ হওয়ার রহস্য

অভিযোগকারীদের দাবি, পাঁচ প্রকৌশলীর কথিত ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা, সম্পদের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। তাঁদের মতে, শুধু ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে অভিযোগের নিষ্পত্তিই নয়, সরকারি চাকরির বিধি মেনে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতেও প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে আবেগ বা প্রচারণার পরিবর্তে নথিনির্ভর তদন্তকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে; আর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও দায়মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজন নথিভিত্তিক অনুসন্ধান

এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর সবকটি আদালত কিংবা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের প্রকৃত ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা, মালিকানা, আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাতের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি।

এ ক্ষেত্রে কোম্পানির নিবন্ধন ও শেয়ার মালিকানা, জমির দলিল, ভবন নির্মাণের অনুমোদন, ফ্ল্যাট বিক্রির চুক্তি, ব্যাংক লেনদেন, আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক দায়িত্ব পর্যালোচনা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য গ্রহণ করে অভিযোগগুলোর বিপরীতে তাঁদের ব্যাখ্যাও যাচাই করা প্রয়োজন।

সবশেষে প্রশ্ন একটাই—সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যদি কোনো কর্মকর্তা অনুমোদনহীনভাবে ব্যক্তিগত ব্যবসায় যুক্ত থেকে থাকেন, তাহলে সেই ব্যবসার প্রকৃত পরিধি কতটা, অর্থের উৎস কী এবং সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে তার কোনো সংঘাত রয়েছে কি না? নথিনির্ভর ও নিরপেক্ষ তদন্তই পারে ‘মিনি শিল্পপতি’ হওয়ার পেছনের প্রকৃত চিত্র উন্মোচন করতে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।