রবিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অবৈধ সম্পদের পাহাড়ে দফায় দফায় কুষ্টিয়ার গণপূর্ত! টেন্ডার সিন্ডিকেট, রাজনৈতিক ছত্রছায়া আর নীরব প্রশাসনের ভয়ংকর নকশা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশে উন্নয়ন মানেই যেন দুর্নীতির নতুন অধ্যায়। আর সেই অধ্যায়ের কেন্দ্রে রয়েছেন কুষ্টিয়ার গণপূর্ত বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম। একের পর এক প্রকল্পে কোটি কোটি টাকার লুটপাট—যেখানে সাধারণ মানুষ শুধু হতবাক হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
সরকারি বেতন আর চাকরির সীমিত সুযোগের আড়ালে কীভাবে একজন প্রকৌশলী খুলনার জোড়াকল বাজারে বহুতল ভবনের মালিক হতে পারেন? কেবল কুষ্টিয়ার নয়, ঢাকার প্রশাসনিক মহলে এখন এটি ‘নীরব আলোচনার’ আলোচ্য বিষয়। অভিযোগ রয়েছে, জাহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ক্ষমতার অপব্যবহার করে গড়ে তুলেছিলেন টেন্ডার সিন্ডিকেট, যার ঢাল—প্রভাবশালী রাজনৈতিক ছত্রছায়া।
মেডিকেল কলেজ প্রকল্প: উন্নয়নের নাম করে কোটি কোটি টাকার লুটপাট
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পই সবচেয়ে বড় অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন অনিয়ম নয়, বরং সুপরিকল্পিত, ধারাবাহিক লুটপাটের রূপরেখা। অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মাহবুব উল আলম হানিফের ঘনিষ্ঠতা ব্যবহার করে তৈরি হয় একটি শক্তিশালী টেন্ডার সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটে repeatedly উঠে এসেছে স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা ও নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামের নাম। সর্বনিম্ন দরদাতারা বারবার বঞ্চিত
দরপত্রের নথি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—একাডেমিক ভবনের লিফট, হাসপাতালের ওটি, আইসিইউ ও সিসিইউ ভবনের কাজগুলোতে সর্বনিম্ন দরদাতারা বঞ্চিত। ইচ্ছাকৃতভাবে ৩–৪ মাস পর্যন্ত দরপত্র ঝুলিয়ে রাখা হয়, যাতে ‘কমিশন’ ছাড়া কোনো ফাইল এগোতে না পারে।
সুপারস্টার ইঞ্জিনিয়ারিং, ক্রিয়েটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং সহ সিন্ডিকেটভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বারবার বেশি দামে কাজ পাইয়ে নেয়। প্রকৃত যোগ্যরা চিৎকার করলেও প্রশাসন চোখ বন্ধ করে বসে থাকে।
একের পর এক প্রকল্প, একই ছক
এই অনিয়ম শুধুমাত্র একটি প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সড়ক, ড্রেন, পুকুরসহ বিভিন্ন প্রকল্পেও একই নকশা অনুসরণ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে—শামীম এন্টারপ্রাইজ সর্বনিম্ন দরদাতার হলেও কাজ পাননি, আর গ্যালাক্সি অ্যাসোসিয়েটস অযৌক্তিকভাবে প্রকল্প পেয়েছে, যার হাতে তখনই প্রায় ৫০ কোটি টাকার কাজ চলছিল।
নতুন সার্কিট হাউস, মডেল মসজিদ—প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে একই কৌশল, অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির ধারাবাহিকতা। প্রশাসন লিখিত অভিযোগ উপেক্ষা করে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনগণ হতবাক।
একই স্থানে বারবার টেন্ডার, একই বছরে একাধিক বিল
৪০ বছর পুরনো সরকারি বাসভবনের কাঠামো পরিবর্তনের নামে-বেনামে টেন্ডার আহ্বান করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ। ডিসি অফিসের বাউন্ডারি, সদর হাসপাতাল, জজ কোর্ট—সব স্থানে একই বছরের জুন মাসেই একাধিক ‘মেরামত’ দেখিয়ে বিল তোলার নাটক।
নীরবতা কি দায়মুক্তি?
এত গুরুতর অভিযোগ সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। জনমনে প্রশ্ন—এই নীরবতা কি শুধু গাফিলতি, নাকি গভীর রাজনৈতিক ছত্রছায়ার পরিচায়ক?
প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে একটাই নিশ্চিত—দুর্নীতির এই ঘৃণ্য চক্রে কুষ্টিয়ার উন্নয়ন প্রকল্পগুলো এখন জনগণের আস্থাহীনতার প্রতীক।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।