কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সংগঠন অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের ব্যানারে প্রতিবাদ সভা ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধনের প্রস্তাব নাকচ করায় একদিনের জন্য হলেও অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ৩০ তলা ভবনের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভা থেকে এ দাবি জানানো হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল-এর ব্যানারে অনুষ্ঠিত এ প্রতিবাদ সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সব পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও ডেপুটি হেড অব বিএফআইইউ মফিজুর রহমান খান চৌধুরী। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন থাকলে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করতে সরকারের আজ ২০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হতো না।
অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ বলেন, চলতি বছরের অক্টোবরের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধনের একটি প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু কোনো ধরনের আলোচনা বা প্রক্রিয়া ছাড়াই সেটি বাতিল করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ গভর্নর থাকাকালীন এই সংশোধনের পক্ষে ছিলেন। অথচ দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বলছেন, এর প্রয়োজন নেই। এই দ্বিমুখী অবস্থানের কারণেই তাঁর পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে। একদিনের জন্য হলেও আমরা তাঁর পদত্যাগ চাই, বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এগিয়ে থাকা দুটি রাজনৈতিক দলই তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন বাস্তবায়ন করতে হবে। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনের পর সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিবাদ সভায় পাঠ করা লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ বলেন, গত ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধনের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। তবে দেশের আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ও সুশাসন জোরদারের স্বার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিষ্ঠানটিকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে এখনও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিভিন্ন মৌলিক কাঠামোগত সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলেও বহুল প্রত্যাশিত বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধন অধ্যাদেশ প্রণয়ন হয়নি। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অথচ আর্থিক খাতের সংস্কার ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একটি স্বাধীন ও সক্ষম কেন্দ্রীয় ব্যাংক অপরিহার্য।
