বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা—অ্যাটর্নি জেনারেল—পদে নিয়োগ ঘিরে রাজনৈতিক ও আইন অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মধ্য থেকেই এ পদে নতুন নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।
আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সিনিয়র আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং রাগিব রউফ চৌধুরী। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, বর্তমানে রাগিব রউফ চৌধুরীর নামই বেশি জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট মহলের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের উচ্চপর্যায়ে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা ও পরামর্শ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, আইন অঙ্গনে ধারণা করা হচ্ছে—অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা এবং পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের কারণে রাগিব রউফ চৌধুরী নিয়োগের দৌড়ে এগিয়ে থাকতে পারেন।
পারিবারিক ঐতিহ্য ও ব্যক্তিগত পটভূমি-
রাগিব রউফ চৌধুরীর পারিবারিক পটভূমিও আলোচনায় এসেছে। তাঁর পিতা, ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রয়াত আব্দুর রউফ চৌধুরী দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ঘনিষ্ঠজনদের মতে, পরিবার থেকেই তিনি রাজনৈতিক সচেতনতা ও জনসেবার মূল্যবোধ অর্জন করেছেন। শিক্ষাজীবনে মেধার স্বাক্ষর
শিক্ষাজীবনে রাগিব রউফ চৌধুরী ছিলেন মেধাবী ও অধ্যবসায়ী।
তিনি কুষ্টিয়া জিলা স্কুল থেকে এসএসসি সম্পন্ন করেন।
এরপর নটরডেম কলেজ ঢাকা থেকে এইচএসসি পাস করেন।
ভারতের ঐতিহ্যবাহী আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
আইনের উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান এবং সেখানে দুটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী লিংকনস ইন থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করে ব্যারিস্টার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।
আইন পেশায় অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা-
সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘদিন আইন পেশায় যুক্ত থেকে তিনি সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলায় দক্ষতার সঙ্গে সওয়াল করেছেন বলে সহকর্মীরা জানান। আইন ও সংবিধান বিষয়ে তাঁর সুস্পষ্ট অবস্থান এবং আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দক্ষতা তাঁকে অ্যাটর্নি জেনারেল পদে সম্ভাব্য শক্ত প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রেখেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
এখন নজর আনুষ্ঠানিক ঘোষণায়-
আইনজীবী সমাজ ও রাজনৈতিক মহলে এখন সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ইঙ্গিত—দেশের নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল কে হচ্ছেন, সে ঘোষণা খুব শিগগিরই আসতে পারে।
